page contents
লাইফস্টাইল, সংস্কৃতি ও বিশ্ব

শিশুর স্থূলতার ব্যাপারে আপনার যা করার আছে

স্থূলতা কেবল প্রাপ্তবয়স্কদের সমস্যা নয়। বরং এই সমস্যা দিনকে দিন বাড়ছে শিশুদের মধ্যে। আমেরিকার এক তৃতীয়াংশ শিশু স্থূলতাজনিত সমস্যায় ভুগছে এবং এ সংখ্যা প্রতিনিয়ত বেড়ে চলেছে।

স্থূলতার কারণে পূর্ণবয়ষ্কদের স্বাস্থ্যে যে বিভিন্ন ধরণের জটিলতার সৃষ্টি হয় সে তুলনায় অবশ্য শিশুরা ততটা ঝুঁকিপূর্ণ নয়। কিন্তু মূলত স্থূল শিশুরাই বয়ঃসন্ধিকালে এবং পূর্ণবয়সে এসে স্থূলতায় ভুগে থাকে। এ কারণে তারা ধীরে ধীরে হৃদরোগ এবং ডায়বেটিসের মতো বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে সবচেয়ে বেশি। একই সাথে, পরিণত বয়সে এসে স্ট্রেস, বিষাদ এবং হীনম্মন্যতার মতো মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনাও স্থূল শিশুদেরই বেশি।

শিশুদের স্থূলতার কারণ
বিভিন্ন কারণে শিশুরা স্থূল হয়ে ওঠে। যেমন, জিনগত কারণ, শারীরিক শ্রমের অভাব, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, কিংবা এই সবগুলোর সমন্বয়।

হরমোনজনিত সমস্যা বা অন্য কোনো শারীরিক সমস্যার কারণে শিশুরা স্থূল হয়ে থাকে খুব কম ক্ষেত্রে। শারীরিক পরীক্ষা এবং কিছু রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব যে স্থূলতার কারণ কোনো শারীরিক সমস্যা কি না।

জিনগত কারণ অর্থাৎ বংশের ধারা একটা কারণ হতে পারে স্থূলতার। কিন্তু তার মানে এই না যে স্থূল পরিবারের সব শিশুই স্থূল হিসেবে বেড়ে উঠবে। কোনো শিশুর বাবা-মা বা ভাই বা বোন যদি স্থূল হয়ে থাকে তবে সেই শিশুর স্থূল হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। কিন্তু একই সাথে এটি সম্পর্কিত বিভিন্ন পারিবারিক অভ্যাসের সাথে। যেমন, একসাথে খাওয়া ও সময় কাটানো ইত্যাদি।

স্থূলতার সমাধানে সবাই মিলে একসাথে স্বাস্থ্যকর কিছু অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

শিশুর ওজন কেমন হবে তা অনেকাংশেই নির্ভর করে শিশুর খাদ্যগ্রহণ ও শারীরিক শ্রমের পরিমাণের উপর। বর্তমানে বেশিরভাগ শিশুই কোনোরকম শারীরিক শ্রম ছাড়া অলস সময় কাটায়। বেশির ভাগ শিশুই প্রতিদিন গড়ে প্রায় চার ঘণ্টা টেলিভিশন দেখে থাকে। কম্পিউটার ও ভিডিও গেইমসের জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকার সাথে এমন অলস সময় কাটানোর পরিমাণ আরো বাড়তে থাকবে।

স্থূল শিশুরা যেসকল রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে

  • উচ্চ কোলেস্টেরল
  • উচ্চ রক্তচাপ
  • বিভিন্ন হৃদরোগ
  • ডায়াবেটিস
  • হাড্ডির সমস্যা
  • ফুসকুড়ি, ফাংগাল ইনফেকশন, ব্রণ ইত্যাদি ত্বকের সমস্যা

আপনার সন্তান স্থূল কি না কীভাবে নিশ্চিত হবেন
আপনার সন্তান স্থূল কি না নিশ্চিত করার সবচেয়ে উপযুক্ত ব্যক্তিটি হলেন ডাক্তার।

সাধারণত বিএমআই (বডি মাস ইনডেক্স) পরিমাপ করার মাধ্যমে কোনো শিশুর স্থূলতা নির্ণয় করা হয়ে থাকে।

বিএমআই হলো ওজন এবং উচ্চতার অনুপাত। বিএমআই পরিমাপ করার জন্য কেজি এককের ওজনকে মিটার এককের উচ্চতার বর্গ দিয়ে ভাগ করা হয়। এর ভাগফল, অর্থাৎ আপনার সন্তানের বিএমআই যদি ২৫-৩০ এর মধ্যে হয় তবে তাকে ওভারওয়েইট বা স্থূল হিসেবে ধরা হবে। স্বাভাবিক ওজনের বিএমআই ১৮.৫-২৪.৯।

স্থূলতা নির্ণয়ে বিএমআই এর সাথে সাথে আপনার সন্তানের বয়স এবং তার বেড়ে ওঠার হারকেও সমান গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হবে।

স্থূল শিশুকে ওজন কমাতে কীভাবে সাহায্য করবেন
যদি আপনার সন্তান স্থূল হয়ে থাকে, তাকে বোঝাতে হবে যে আপনি তার ব্যাপারে সাপোর্টিভ হবেন। এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সন্তান নিজের ব্যাপারে যে ধারণা রাখে তা অনেকটাই নির্ভর করে বাবা-মা তার ব্যাপারে কেমন ধারণা রাখে তার উপর। আপনি যদি স্থূলতার পরও তাকে সহজ ও স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করেন, সে নিজের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী হবে। তবে সন্তানের সাথে তার ওজন নিয়ে খোলামেলা আলাপ করাটাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এই ব্যাপারে তার মতামত ও ধারণা তাকে শেয়ার করতে দিন।

কোনো কোনো পরিবার স্থূলতার কারণে তাদের সন্তানের ব্যাপারে রুক্ষ আচরণ করে থাকে। স্থূলতার কারণে তাকে মানসিকভাবে দূরে ঠেলে দেওয়া হয়। এতে শিশুটি হীনম্মন্যতায় ভুগে থাকে। বরং বাবা-মার উচিত হবে পুরো পরিবারের শারীরিক শ্রম ও খাদ্যাভ্যাস নিয়ে ভাবা। পরিবারের সবাইকে নিয়েই এ ব্যাপারে কাজ করতে হবে। স্থূলতার সমাধানে সবাই মিলে একসাথে স্বাস্থ্যকর কিছু অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। এতে করে স্থূল শিশুটি নিজেকে কখনও আলাদা মনে করে হীনম্মন্যতায় ভুগবে না।

সবাই মিলে স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলা
নিজেই উদাহরণ হয়ে উঠুন। আপনার সন্তান যদি দেখে আপনি অলস নন, আপনি নিয়মিত শারীরিক শ্রম করে জীবনটাকে উপভোগ করছেন, তাহলে অনুকরণের মাধ্যমে তাদেরও এমন জীবন যাপনে অভ্যস্ত হয়ে ওঠাটাই স্বাভাবিক।

মর্নিং ওয়াক, সাইকেল চালানো, সাঁতার কাটা ইত্যাদি পারিবারিক অভ্যাস আয়োজন করুন যাতে একসাথে সবার ব্যায়াম হয়।

আপনার সন্তানের ইচ্ছের ব্যাপারে সংবেদনশীল হোন। স্থূল শিশুরা তাদের ওজনের কারণে কিছু কিছু একটিভিটি বা খেলাধুলায় অস্বস্তি বোধ করতে পারে। আপনার সন্তানের পছন্দের ব্যায়াম বা খেলাধুলা খুঁজে বের করতে সাহায্য করুন যা তার জন্য বিব্রতকর বা খুব কঠিন হবে না।

টিভি দেখা বা ভিডিও গেইমস খেলায় শারীরিক শ্রম নেই। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে এই ধরণের অলস কর্মকাণ্ড যত কমিয়ে আনা সম্ভব সে চেষ্টা করুন।

Tagged with:

About Author

সাম্প্রতিক ডেস্ক