সপ্তাহে একবারের বেশি গাঁজা খেলে পুরুষদের স্পার্ম বা শুক্রাণুর সংখ্যা কমে যেতে পারে

শেয়ার করুন!

সাম্প্রতিক গবেষণা থেকে জানা গেছে, সপ্তাহে মাত্র দুইবার গাঁজা খেলেও আপনার স্পার্মসংখ্যা স্বাভাবিকের চাইতে তিন ভাগের এক ভাগে নেমে আসতে পারে।

ইউনিভার্সিটি অফ ব্রিটিশ কলাম্বিয়া মেডিকেল স্কুলের ইউরোলজিক্যাল সায়েন্স বিভাগের একজন অধ্যাপক বলেন, “গবেষণার ফলাফল থেকে যে প্রমাণ পাওয়া যায়, তাতে স্পার্মসংখ্যার ওপর মারিজুয়ানার প্রভাব নিশ্চিত।”

কিছু কিছু গবেষণায় শুধু স্পার্মসংখ্যার ওপর নজর দেওয়া হলেও, ওই অধ্যাপক জানান, মারিজুয়ানা স্পার্মের গতিবিধির ওপরও প্রভাব ফেলে—”এর ফলে স্পার্ম নরম হয়ে যায় এবং বৃত্তাকারে সাঁতার কাটতে থাকে।”

সম্প্রতি পশ্চিমা দেশগুলিতে পুরুষদের প্রজনন ক্ষমতা হ্রাস এবং স্পার্মসংখ্যা কমে যাওয়া নিয়ে যেসব রিপোর্ট করা হয়েছিল—তার পেছনের কারণ খুঁজতে পুরুষদের জীবনযাপনের পদ্ধতিতে নজর দেওয়া হয়।

তাছাড়া কানাডায় মারিজুয়ানা বৈধ করার সিদ্ধান্ত এখনো অমীমাংসিত রয়েছে। তাই বিশেষজ্ঞরা চিন্তা করছেন, বেশি পরিমাণে গাঁজা সেবনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কী কী হতে পারে সেদিকে নজর দেওয়ার সময় এসেছে।

গবেষকরা জানান, শুধু স্পার্মসংখ্যাই না, স্পার্মের কার্যকারিতার ওপরেও গাঁজা সেবন নেতিবাচক প্রভাব ফেলে থাকে।

স্পার্মের ক্লোজ-আপ ছবি। গবেষণা থেকে জানা গেছে, বেশি মারিজুয়ানা সেবনে পুরুষদের প্রজনন ক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

পুরুষদের শরীরে প্রতি তিন মাসে সম্পূর্ণ নতুন স্পার্ম তৈরি হয়। তাই অধিক মারিজুয়ানা ব্যবহারে স্পার্মের ওপর তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়ে। তাছাড়া যেসব মহিলা প্রেগন্যান্ট হবার ইচ্ছা রাখেন, তাদের অন্যান্য মাদকদ্রব্যের পাশাপাশি অবশ্যই মারিজুয়ানা থেকেও দূরে থাকা উচিৎ।

স্পার্মসংখ্যা এবং তার গুণাগুণের ওপর গাঁজা যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে—সেই কথা বিবেচনা করে গাঁজা সেবনকারীরা তাদের অভ্যাস পরিবর্তন করতে উৎসাহী হতে পারেন। তবে ম্যাকগিল ইউনিভার্সিটির একজন ইউরোলজির অধ্যাপক মনে করেন, গাঁজার প্রভাব সম্বন্ধে পুরাপুরি জানতে আমাদের আরো নিরপেক্ষ গবেষণা প্রয়োজন।

কিছু ক্ষেত্রে সরাসরি মানুষদের নিয়ে গবেষণা করে দেখা হলেও বেশিরভাগ পরীক্ষাই পশুদের ওপর করা হয়েছে বলে এই অধ্যাপক বলেন, “সেরকম পরীক্ষামূলক বা নিরপেক্ষ গবেষণা করা হয় নাই আসলে। তাই এ ধরনের সিদ্ধান্তের পেছনে যে বিজ্ঞান রয়েছে, সেটা তেমন দৃঢ় না। কিন্তু তেমন শক্তিশালী উপাত্ত না থাকলেও গাঁজার নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে বেশ কিছু প্রমাণ আমরা পেয়েছি।”

এ দুই অধ্যাপকই ২০১৫ সালের এক গবেষণার কথা উল্লেখ করেন। ডেনমার্কের সেই গবেষণায় ১,২০০ জন পুরুষ অংশগ্রহণ করেছিলেন। জীবনযাপনের অন্যান্য নিয়ামক (যেমন ওজন, ধূমপান, স্যাম্পল দেওয়ার আগে সর্বেশেষ বীর্যপাতের সময় পার্থক্য) বিবেচনা করার পরও দেখা যায় যে, সপ্তাহে একবারের বেশি গাঁজা খাওয়ার ফলে স্পার্মের ঘনত্ব ২৮% কমে যায় এবং স্পার্ম সংখ্যা কমে ২৯%।

ড্যানিশ সেই গবেষণা দল ব্যাপারটি নিয়ে আরো বেশি করে পরীক্ষা করার কথা জানায়। কিন্তু বর্তমানে বেশ কয়েকটি দেশ মারিজুয়ানা বৈধ করে দিয়েছে এবং সেই সংখ্যা দিনদিন আরো বাড়ছে। তাই তাদের এ গবেষণা জনস্বার্থে কাজে আসবে বলে ধারণা করছিল দলটি।

কিছু কিছু গবেষণায় শুধু স্পার্ম সংখ্যার ওপর নজর দেওয়া হলেও, ওই অধ্যাপক জানান, মারিজুয়ানা স্পার্মের গতিবিধির ওপরও প্রভাব ফেলে—”এর ফলে স্পার্ম নরম হয়ে যায় এবং বৃত্তাকারে সাঁতার কাটতে থাকে।”

মারিজুয়ানার সমর্থক অনেক কর্মী রয়েছেন যারা গাঁজার বিভিন্ন নেতিবাচক প্রভাবকে প্রোপাগান্ডা বলে মনে করেন। ২০১৭ সালের আগস্ট মাসে ‘ক্যানাবিস কালচার’ ম্যাগাজিনের অন্যতম মালিক ও একজন মারিজুয়ানা সমর্থক জোডি এমেরি টুইটারে বলেন, হেলথ কানাডার নির্দেশনায় গাঁজার সব পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার তালিকা থেকে স্পার্মসংখ্যা হ্রাসের ব্যাপারটি তুলে দেওয়া দরকার কিনা তা ভেবে দেখা উচিৎ।

কিন্তু গবেষণা বলছে, যারা পরিমিত মাত্রায় গাঁজা সেবন করেন, তারা বাবা হতে চাইলে গাঁজা খাওয়া কমিয়ে দেওয়া তাদের জন্য একটি ভাল সিদ্ধান্তই হবে।

তবে এর আগ পর্যন্ত বেশিরভাগ গাঁজা সম্পর্কিত গবেষণাতে টিএইচসি এর ওপর নজর দেওয়া হয়েছে বেশি। এই কেমিক্যালটি আপনাকে নেশাগ্রস্ত করতে সাহায্য করে। কিন্তু গাঁজার আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো জটিল ক্যানাবিনয়েড। এর দিকেও নজর দেওয়া দরকার।

কারণ এই জটিল মাদক উপাদানগুলি প্রজনন সমস্যায় থাকা পুরুষদের জন্য ইতিবাচক ফল দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২০১৬ সালে ব্রিটিশ জার্নাল অফ ফার্মাকোলজি’র এক গবেষণা থেকে জানা যায়, একটি নির্দিষ্ট ক্যানাবিনয়েড রিসেপ্টর স্পার্ম উৎপাদনের মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে। এর মাধ্যমে পুরুষদের অক্ষমতার চিকিৎসা করা সম্ভব।

কিন্তু এসব রিসেপ্টরকে ভুল উপায়ে উদ্দীপিত করা হলে তা স্পার্ম সংখ্যা না বাড়িয়ে বরং কমিয়েও দিতে পারে। তাই ওই গবেষকরা জানিয়েছেন, তাদের পরীক্ষা থেকে আবার এরকম ধারণা যেন না করা হয় যে, স্পার্ম উৎপাদনের জন্য গাঁজা সেবন ভালো। তবে ভালো হোক বা খারাপ—গাঁজা যে স্পার্মের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে, এ পরীক্ষাগুলি থেকে সে ব্যাপারে নিশ্চয়তা পাওয়া যায়।

সূত্র : ন্যাশনাল পোস্ট

কমেন্ট করুন

মন্তব্য

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here