page contents
সমকালীন বিশ্ব, শিল্প-সংস্কৃতি ও লাইফস্টাইল

সফল হতে চাইলে যে ১০টি অভ্যাস থেকে দূরে থাকবেন

আমরা সবাই সফল হতে চাই। কিন্তু যে সব জিনিস সফলতা থেকে আমাদের দূরে রাখে আমরা সেগুলির মুখোমুখি হতে চাই না। গুরুত্বপূর্ণ অনেক কিছুই এড়িয়ে যাই আমরা। ফলে শেষ পর্যন্ত নিজের দুর্বলতার ফাঁদে নিজেকেই পড়তে হয়।

সাফল্য পেতে যে ১০টি অভ্যাস থেকে মুক্ত থাকতে পারেন আপনি:

১. যারা সফল তাদেরকে আদর্শ মনে করা

আমাদের সবারই এমন কিছু মানুষ দরকার যাদের কাছ থেকে আমরা কিছু শিখতে পারি। কিন্তু সমস্যা তখনই হয়, যখন ইন্ডাস্ট্রির শীর্ষ ব্যক্তিরা প্রায় দেবতার মর্যাদা পেয়ে যান। তাদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া ঠিক আছে। কিন্তু নিজেকে তাদের সাথে গুলিয়ে ফেললে হবে না। মনে রাখা দরকার, আপনার জীবন অন্য কেউ এসে কাটিয়ে দিয়ে যাচ্ছে না।

তাদের অভিজ্ঞতাকে আপনার জন্য নির্দেশনা হিসাবে ব্যবহার করতে পারেন। কিন্তু প্রত্যেক মানুষের সাফল্যের পথ আলাদা। সফলতার নির্দিষ্ট কিছু চিহ্ন আর প্যাটার্ন আছে। আপনাকে নিজের জন্য প্রয়োজনীয় অংশগুলি রেখে বাকি সব ঝেড়ে ফেলতে হবে।

২. সমকক্ষ ব্যক্তির সাথে নিজেকে তুলনা করা

ধরেন, আপনার এক বন্ধুর গেস্ট হাউজে বেড়াতে গেলেন আপনি। গিয়ে দেখলেন, আপনি যে বাসায় থাকেন তার চাইতেও সেই গেস্ট হাউজ অনেক বড়। আপনি নিজেকে তার সাথে তুলনা করবেন; ফলে তার ধনসম্পদের পরিমাণ দেখে আপনার খারাপ লাগা শুরু হবে। আসলে আমরা সবাই সে জিনিসটাই চাই যা আমাদের নাই। কিন্তু একটা সময় আসে, যখন এ ধরনের তুলনা থেকে দূরে না থাকলে সাফল্যের কাছে যাওয়া যায় না।

সেই মনোযোগটা নিয়ে আপনি বরং নিজের কাজের ওপর প্রয়োগ করেন। দেখেন, আগের তুলনায় আপনার কাজে উন্নতি এসেছে কিনা। কাজের সাথে কাজের তুলনা করেন, নিজের সাথে অন্যের না।

৩. চেষ্টা না করে শুধু হিসাব কষতে থাকা

“আহারে, আমার যদি অমুক জিনিসটা থাকতো”—এ রকম ভাবে চিন্তা শুরু করার চাইতে খারাপ কিছু হতে পারে না। সব কিছুরই নিজস্ব অবস্থান আছে। যেখানে যে পরিবর্তনটা আপনি আনতে চান, সে ব্যাপারে নিশ্চিত হন। তারপর সেই কাজে নেমে পড়েন। হতে পারে লোনের টাকা দেওয়ার জন্য আপনি চাকরি ছাড়তে পারতেছেন না। কিন্তু দয়া করে এ রকম কিছু বলে আফসোস করবেন না যে, টাকাপয়সা থাকলে এতদিনে একটা ব্যবসা শুরু করে ফেলতে পারতেন আপনি।

এ রকম হা হুতাশ বাদ দেন। অযথা উচ্চাশা করবেন না। নেটফ্লিক্সে সিনেমা বা স্টেডিয়ামে খেলা না দেখে বরং সে সময়টা কাজে লাগিয়ে নিজের ব্যবসা দাঁড়া করানোর চেষ্টা করেন। নয়তো চুপ করে থাকেন।

৪. নিজের সম্পর্কে নিচু ধারণা রাখা

এ রকম অনেক লোক দেখা যায় যারা বহু বছর ধরে একই চাকরি করে যাচ্ছেন। তারা মনে করেন, এ রকম দুর্দশায় জীবন কাটানো বোধহয় তাদের ভাগ্যেই লেখা আছে। অথচ নতুন একটা কাজে দক্ষ হবার মতো ক্ষমতা হয়তো আছে আপনার। চাইলে এক ইন্ডাস্ট্রি থেকে অন্য ইন্ডাস্ট্রিতেও যেতে পারেন। হ্যাঁ, ব্যাপারটা কষ্টসাধ্য। কিন্তু চেষ্টা না করে বসে থাকলে কী হবে?

অজানার প্রতি ভয়টা একেবারে দূর করে ফেলেন। নিজেকে সীমাবদ্ধ করে রাখে এমন কোনো বিশ্বাস ধরে রাখবেন না। এ রকম ভাবার কোনো কারণ নাই যে, সফল ব্যক্তিরা সবাই আপনার চাইতে বেশি প্রতিভাবান। তারা শুধু আপনার চাইতে একটু বেশি একগুঁয়ে।

আপনিও একগুঁয়ে হয়ে এমন সব পদক্ষেপ নেন যা কেউ প্রত্যাশাই করে নি।

৫. অন্যকে দোষ দেওয়া

আপনার দুর্ভাগ্যের জন্য আপনি নিজে ছাড়া আর কেউ দায়ী না। কেউই না। এটাই বাস্তবতা। মেনে নেন।

৬. অন্যকে জাজ করা

ধনী মানুষরা যে সবসময় অধিকারবলে সবকিছু পেয়ে থাকেন, তা না। তাদের মাঝে অনেকেই আছেন যারা গাধার মতো খেটে টাকাপয়সা কামাই করেছেন। গরিব মানুষরাও সবাই অলস না। তারা শুধু বিপদ থেকে বের হবার রাস্তা সবসময় বুঝে উঠতে পারেন না বলেই আটকা পড়ে থাকেন।

জাজমেন্টাল না হয়ে তাই সামনে এগিয়ে যান।

৭. সব প্রশ্নের উত্তর জানার চেষ্টা করা

যখন কোনো কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি হবেন, তখন সবচাইতে বুদ্ধিমানের কাজ হলো—”আমি জানি না” বলে বেরিয়ে পড়ে সঠিক উত্তরটা খুঁজে বের করা। সব প্রশ্নের উত্তর আপনি কোনো ভাবেই জানতে পারবেন না। কিন্তু যদি এমন সব উদ্যমী মানুষদের দিয়ে নিজেকে ঘিরে রাখতে পারেন যারা আপনাকে সাহায্য করার জন্য সবসময় প্রস্তুত আছেন, তাহলে সঠিক উত্তরটা একসময় ঠিকই পেয়ে যাবেন।

৮. পারফেক্ট হবার চেষ্টা করা

সাফল্যের পথে কিছু কাজ এলোপাথাড়িভাবে করতে হয়। কোনোকিছুই পারফেক্ট হয় না।

গ্রেটনেস আপনার লক্ষ্য হতে পারে, কিন্তু কোনো কাজ হাত থেকে ছুটে গেলেই দুঃখ করতে বসে যাওয়ার কোনো মানে নাই।

৯. নিজের আরামকে প্রাধান্য দেওয়া

পুরো জীবন জুড়েই আপনাকে অস্বস্তির মাঝে পড়তে হবে। আপনি অনিরাপদ বোধ করবেন। নিজের ক্ষমতার ওপর সন্দেহ এসে পড়বে। কখনো কখনো উদ্বিগ্নও হয়ে যেতে পারেন। কিন্তু এ সবকিছুতেই আপনাকে অভ্যস্ত হতে শিখতে হবে।

অস্বস্তি আপনাকে ধ্বংস করতে পারবে না; কিন্তু নিজের প্রতি করুণাবোধ ঠিকই আপনাকে বিপর্যস্ত করে দিবে।

১০. অপেক্ষা করতে থাকা

ব্যবসা শুরু করার, কাজে নামার বা নতুন চ্যালেঞ্জ হাতে নেওয়ার ‘উপযুক্ত সময়’ বলে কিছু নাই।

যদি নিজের মাঝে আকঙ্ক্ষা অনুভব করতে পারেন, তাহলেই বুঝে নিতে হবে, প্রথম পদক্ষেপ নেওয়ার সময় আপনার এসে গেছে।

আরো পড়ুন: সব উদ্যোক্তারই জানা দরকার এমন ১৫টা বিজনেস টিপস

কমেন্ট করুন

মন্তব্য

Tagged with:

About Author

সাম্প্রতিক ডেস্ক

Leave a Reply