সাইবর্গ ব্যাকটেরিয়ার সাহায্যে পরিবেশবান্ধব জ্বালানি উৎপাদন করা যাবে—জানালেন বিজ্ঞানীরা

শেয়ার করুন!

সাইবর্গ (সাইবারনেটিক অরগানিজম) হলো প্রাকৃতিক ও যান্ত্রিক অংশের সমন্বয়ে গঠিত প্রাণিসত্তা। সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা ব্যাকটেরিয়া ব্যবহার করে একটি সাইবর্গ তৈরি করেছেন। এই সাইবর্গ ব্যাকটেরিয়ার শরীরের ওপর ছোট ছোট সোলার প্যানেল থাকবে, যা সূর্য থেকে শক্তি নিয়ে অনেক প্রয়োজনীয় যৌগ তৈরি করতে পারবে।

বিশ্বের সবচাইতে বড় বিজ্ঞান সংসদ আমেরিকান কেমিক্যাল সোসাইটি। এই সোসাইটির একটি জাতীয় মিটিংয়ে গবেষণাটি উপস্থাপন করেন হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির গবেষক ড. কেলসি সাকিমোতো এবং কেমিস্ট্রি প্রফেসর পেইডং ইয়াং। ইউএস ডিপার্টমেন্ট অফ অ্যানার্জি এবং ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশন গবেষণাটির জন্য প্রয়োজনীয় অর্থসাহায্যের যোগান দিয়েছে।

উদ্ভিদের ক্লোরোফিল নামক রঞ্জক পদার্থ সূর্যরশ্মি থেকে শক্তি সংগ্রহ করতে সাহায্য করে। হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির গবেষকরা সেই ক্লোরোফিলের বিকল্প খোঁজার আশায় এ সাইবর্গ ব্যাকটেরিয়া তৈরি করেন। যাতে প্রাকৃতিক সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া ছাড়াও আরো কার্যকর উপায়ে মানুষের জন্য সৌর শক্তি সংগ্রহ করা যায়।

গবেষণার প্রধান ড. কেলসি সাকিমোতো বলেন, “সূর্যের আলোকরশ্মি সংগ্রহ করার জন্য ক্লোরোফিল তেমন একটা কার্যকর না। তাই এর ওপর নির্ভর করার চাইতে আমি ব্যাকটেরিয়াকে শেখানোর চেষ্টা করেছি, যাতে তাদের দেহের বাইরের অংশ জুড়ে ছোট ছোট সেমি-কন্ডাক্টর ন্যানো ক্রিস্টাল উৎপাদিত হয়।”

এই ক্রিস্টালগুলি সোলার প্যানেল হিসাবে কাজ করবে, যার মাধ্যমে অনেক ধরনের যৌগ উৎপাদন করা যাবে, কোনো বর্জ্য ছাড়াই।

এক্ষেত্রে Moorella thermoacetica নামের একটি ব্যাকটেরিয়া  ব্যবহার করা হয়েছে। গবেষণা দলটি ব্যাকটেরিয়ার দেহে ক্যাডমিয়াম এবং সিস্টিন নামের একটি অ্যামিনো এসিড প্রয়োগ করে। এই অ্যামিনো এসিডে এক অণু সালফার থাকে। এর সাহায্যে ব্যাকটেরিয়াটি ক্যাডমিয়াম সালফাইড ন্যানোপার্টিকেল তৈরি করে। ন্যানোপার্টিকেলটাই তাদের দেহের উপরিভাগে সোলার প্যানেল হিসাবে কাজ করে থাকে।

সোলার প্যানেল বা কালেক্টরের মাধ্যমে ব্যাকটেরিয়াটি সূর্যরশ্মির শতকরা ৮০ ভাগ শক্তি ব্যবহার করে অ্যাসিটিক এসিড তৈরি করে। অ্যাসিটিক এসিডকে আবার সহজেই বিভিন্ন প্রকার জ্বালানি, পলিমার ও ঔষধি পদার্থে রূপান্তর করা যায়।

“দেহজুড়ে ছোট ছোট সোলার প্যানেল উৎপাদিত হবার পর সৌরশক্তি ব্যবহার করে ব্যাক্টেরিয়াটি খাবার, জ্বালানি ও প্লাস্টিক তৈরি করতে পারে,” বলেন ড. সাকিমোতো।

সাধারণ সোলার প্যানেলের চাইতে এটি তৈরিতে খরচ হবে প্রায় কয়েক গুণ কম। তাছাড়া সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে আবার প্রথম থেকে চালু হয়। কিন্তু বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের আগে এর আরো কিছু জিনিস মডিফাই করতে হবে।

সূত্র. ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া ডেইলি মেইল

কমেন্ট করুন

মন্তব্য

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here