page contents
লাইফস্টাইল, সংস্কৃতি ও বিশ্ব

সিগারেট ইন্ডাস্ট্রির পক্ষে বিপক্ষে

এমন কি কখনও হইছে যে কোনো বই বা সিনেমা বা গান আপনার বেশ মনে ধরছে, কিন্তু আস্তে আস্তে বিভিন্ন অভিজ্ঞতায় আপনার প্রিয় জিনিসটার বেশ কিছু ভুল আপনার দৃষ্টিগত হইল এবং ধীরে ধীরে সেইটা আপনার খারাপ লাগতে থাকল?

ইন্টারনেটে আরবান ডিকশনারি ডটকম বইলা একটা সাইট আছে, তারা এই অভিজ্ঞতার নাম দিছে to ‘JUNO’। জুনো নামটা অনেকেরই পরিচিত হওয়ার কথা, ২০০৮ এ চারটা বড় বড় বিভাগে অস্কারে মনোনীত হয়, বেস্ট অরিজিনাল স্ক্রিনপ্লে জিতে। পরবর্তী কয়েকবছরে সমালোচক আর দর্শক উভয়েরই চরম ব্যাকল্যাশ-এর শিকার হয় ‘জুনো’ (২০০৭)। সিনেমার তথা শিল্পের জগতে এই ব্যাকল্যাশ বা প্রতিক্রিয়ার উদাহরণ ভুরি ভুরি।

২০০৫ সালের বেস্ট ফিল্ম আর স্ক্রিনপ্লে দুইটাতেই জিতা ‘Crash’ নিয়া যে ক্রিটিসাইজ শুরু হইছিল সেইটা অস্কারের সম্মান মোটামুটি খোয়ায় দিছিল। পরবর্তীতে দশটা সিনেমা মনোনয়ন করার প্রাক দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের নিয়মরে আবার একাডেমি ফিরায় আনে—’অ্যাভাটার’ (২০০৯), ‘দ্য ডার্ক নাইট’ (২০০৮) -এর মত মেইনস্ট্রিম সিনেমারে মনোনয়ন দেয়া শুরু করে আবার।

movie-review-logo

এই ২০০৫ সালেই জুনোর পরিচালক জেসন রাইটম্যান আত্মপ্রকাশ করে ‘থ্যাঙ্ক ইউ ফর স্মোকিং’ (২০০৫) দিয়ে। ‘থ্যাঙ্ক ইউ’র স্ক্রিপ্ট ক্রিস্টোফার বার্কলির একই নামের উপন্যাসের ভিত্তিতে জেসন রাইটম্যানই লিখছেন। যারা হলিউডরে খানিকটা উন্নাসিকতার চোখে দেখেন এলিট একটা ইন্ডাস্ট্রি হিসেবে, তাদের কাছে জেসন রাইটম্যানের ক্যারিয়ার উদাহরণযোগ্য। ইনার বাবা ইভান রাইটম্যান স্টুডিও ফেভারিট ডিরেক্টর—’ঘোস্টবাস্টার্স’ (১৯৯৮), ‘এভলিউশন’ (২০০১), ‘স্ট্রাইপস’ (১৯৮১)-এর মত কমেডি বানাইছেন। তার ছেলে হিসেবে জেসনের হলিউড জীবন স্মুথ হওনের কথা। অথচ ‘থ্যাঙ্ক ইউ’য়ের ফান্ডিং-এর জন্য তারে অপেক্ষা করতে হইছে ৬ বছর। শেষ পর্যন্ত পে পাল-এর প্রতিষ্ঠাতা বইটার প্রতি আগ্রহী হইয়া, পরে স্ক্রিপ্ট পইড়া, ফাইনান্স করতে রাজি হয়।

jason-reitman-1

ছবির পরিচালক জেসন রাইটম্যান (জন্ম. কানাডা ১৯৭৭)

আমি শুরুতেই to JUNO নিয়া কথা বললাম এর কারণ জেসন রাইটম্যান-এর ক্যারিয়ার খানিকটা এই নতুন প্রবাদে আটকায় যাইতেছে। তার প্রথম সিনেমা নিয়া কেউ কথাই বলে নাই। দ্বিতীয়টা ওভার প্রেইজড কইরা এখন আবার প্রচণ্ড ক্রিটিসাইজ করা হইতেছে এবং পরবর্তী সিনেমাগুলা টোটালি সিনের বাইরে চইলা যাইতেছে—’ইয়াং অ্যাডাল্ট’ (২০১১), ‘লেবার ডে’ (২০১৩), ‘ম্যান, ওম্যান অ্যান্ড চিলড্রেন’ (২০১৪)। যদিও ‘জুনো’ (২০০৭) পরবর্তী ‘আপ ইন দ্য এয়ার’ (২০০৯) নিয়া অনেক কথা শুনা যায়।

হলিউডের নতুন ডাইরেক্টর হিসেবে আমার কাছে জেসন রাইটম্যানরে বেশ মনে ধরছিল। তার ‘থ্যাঙ্ক ইউ ‘ আমার বেশ প্রিয় সিনেমা। হলিউডে সময় সময় বেশ সাহসী কিছু সিনেমা বাইর হয়, যারা ভয়ানক সব ইস্যু নিয়া কথা বলার চেষ্টা করে এবং সেইটারে সুগার কোটও করে না। ২০০৫ সালে এই দুইটা ভয়ানক ইস্যুতে প্রায় একই রকম দুইটা সিনেমা বাইর হয়, আন্তর্জাতিক অস্ত্র ব্যবসা নিয়া ‘লর্ড অব ওয়ার’ আর ধূমপান তথা সিগারেট নিয়া ‘থ্যাঙ্ক ইউ ফর স্মোকিং’। আমার আজকের লিখা ‘থ্যাঙ্ক ইউ’ নিয়া।

smoking-56

ছবির দৃশ্যে কেটি হোমস।

‘থ্যাঙ্ক ইউ ফর স্মোকিং’ (২০০৫) একটা  নন-এপোলজেটিক কনট্রোভার্সিয়াল স্যাটায়ার। সিনেমার মূল মেসেজ—বড় কর্পোরেশনের মিসলিডিং বিজ্ঞাপন খারাপ না, সিগারেট খাওয়া মামুলি ব্যাপার—যে সব রাজনীতিবিদ মানুষের ভাল চায় বলে তারা আসলে নিজেদের স্বার্থের জন্যই কাজ করতেছে! প্রত্যেকটা ইস্যু অতি বিতর্কিত এবং সম্ভবত এইসব তর্কের কোনো শেষ উত্তর নাই!

সিনেমার মূল চরিত্র এই সব বিতর্কিত ইস্যুগুলার গভীরে টাইনা নেয় দর্শকরে।

thank-you-covতার নাম নিক নেইলর (ডার্ক নাইট খ্যাত অ্যারন অ্যাকহার্ট), ইন্টারন্যাশনাল টোবাকো ইন্ডাস্ট্রির মুখপাত্র তথা লবিস্ট, যার জীবনের একমাত্র কাজ সিগারেট নিয়া পজিটিভ কথা বলা। আমরা শুরুতেই একটা টকশোতে তার সাথে পরিচিত হই—যেখানে নিকের পাশে এক কিশোর ক্যান্সার রোগী রবিন—যে কিনা সিগারেট ছেড়ে দিছে। পুরো রুমজুড়ে দমবন্ধ অবস্থা—সবাই বইসা আছে যেন নিক মুখ খুইলা সিগারেটের ব্যাপারে পজিটিভ কিছু কইলেই রায়ট হয়া যাবে! অথচ টকশোর হোস্ট নিকের মন্তব্য জানতে চাইলে সে রিলাক্স হয়া বলে, টোবাকো ইন্ডাস্ট্রি কখনোই চায় না রবিনের মত কাস্টমার হারাইতে, সিগারেটের বিরোধী পার্টির বেশি লাভ সে মারা গেলে!

বুঝতেই পারতেছেন আমাদের নায়ক (!) নিকের কোনো নির্দিষ্ট নৈতিকতা নাই—তার কাজ নেগেটিভ ইমেজরে পজিটিভ বানানো!

সিনেমার যদিও কোনো নির্দিষ্ট পয়েন্ট অভ ভিউ নাই, কিন্তু বেশ কিছু ভাল মন্তাজের সফল কম্পোজিশন আমাদের আস্তে আস্তে নিকের জগতের আরও গভীরে নিয়া যায়। আমরা আবিষ্কার করি তার বন্ধুদের, একসাথে নিক যাদের বলে—M.O.D (Merchant of Death)।

নিক ছাড়াও এই দলে আছে পলি বেইলি (‘সিক্রেট উইন্ডো’ (২০০৪), ‘এ হিস্টরি অফ ভায়োলেন্স’ (২০০৫)-এর মারিয়া বেলো) যে কিনা অ্যালকোহল ইন্ডাস্ট্রির মুখপাত্র আর ফায়ার আর্মস ইন্ডাস্ট্রির মুখপাত্র ববি জে. ব্লিস (ডেভিড কোচনার)। তারা সময় সময় কার ইন্ডাস্ট্রি কত মানুষের মৃত্যুর জন্য দায়ী সেইটা নিয়া তুলনা করে, প্রায় প্রতিযোগিতার মত!

কিন্তু আমরা নিকের অন্য দিকটাও দেখি—সে তার কাজের প্রতি নিবেদিত। তার ছেলেকে সে প্রচণ্ড ভালোবাসে এবং সে তার কাজ আর নৈতিক অবস্থান নিয়ে একেবারে সৎ ও পরিষ্কার।

একটা দৃশ্যে নিকের কাজ আসলে কী সেইটা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তার ছেলের সাথে তর্ক শুরু করে আইসক্রিম নিয়া, সবচেয়ে ভাল আইসক্রিম কোনটা, চকলেট না ভ্যানিলা? নিকের ছেলে জোই (ক্যামেরন ব্রাইট) চকলেট আইসক্রিমের পক্ষে যুক্তি দিতে থাকলে নিক তাকে থামায়, বলে, আমি বিশ্বাস করি মানুষের চয়েসে, যার যেই আইসক্রিম ভাল লাগে সেটা তারে খাইতে দেওয়া উচিত। নিকের ছেলে থমকায় গিয়া কয়—তুমি তো ভ্যানিলারে বেস্ট প্রমাণ করলা না। তখন নিকের উত্তর—তার কাজ ভ্যানিলারে বেস্ট প্রমাণ করা না বরং বিপক্ষরে ভুল প্রমাণ করা—বিপক্ষ ভুল মানেই সে সঠিক।

smoking-123আমরা দেখতে থাকি নিক কত চতুরতার সাথে তার উপরের কথাগুলাই প্রমাণ করতে থাকে গোটা সিনেমায়। সে হলিউডে গিয়া লবিং করে কোটি টাকার, যাতে বড় স্টাররা সিনেমার পর্দায় আবার সিগারেট খাওয়া শুরু করে। সিগারেটের বিজ্ঞাপনের কিংবদন্তীতুল্য Marlboro Man যখন নিজে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়া সিগারেটের বিপক্ষে কথা বলতে থাকে তখন সে তারে ঘুষ দিতে যায়। এমনকি একটা দৃশ্যে প্লেনে ভ্রমণের সময় নিক আমাদের বলে— সে ফার্স্টক্লাস ফ্লাই করে না কারণ সাধারণ মানুষের সাথে সেইখানে ইন্টার‌্যাকশন কম, তাই সে কোচে যাতায়াত করে—যাতে অন্তত একজনরে এই সময় সিগারেট খাওয়াইতে রাজি করাইতে পারে তার বিখ্যাত যুক্তি দিয়া!

নিকের মূল প্রতিপক্ষ ভেরমন্টের সিনেটর ওর্টল্যান ফিনস্টিয়ার (উইলিয়াম এইচ. মেসি), যে সিগারেট এর প্যাকেটে ছবি সম্বলিত ওয়ার্নিং চায়। যে নিজে আবার আমেরিকার ডেইরি ইন্ডাস্ট্রির বড় পৃষ্ঠপোষক। সিনেমার থার্ড অ্যাক্টে আমরা দুই প্রতিপক্ষকে মুখোমুখি হতে দেখি—যেখানে নিক সিনেটরের যুক্তির উত্তরে বলে—আপনার স্টেট সিগারেটের চেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যুর জন্য দায়ী, আমেরিকার লোকজনরে মোটা বানাইতেছে আপনার রাজ্যের পনির আর প্রসেসড মাংস দিয়া কোলেস্টেরলে ভইরা গেছে তাদের ধমনী। আজকে ফাস্ট ফুড ইন্ডাস্ট্রি নিয়া প্রচুর শঙ্কার কথা শুনা যায়, আমেরিকার ফাস্ট ফুড ইন্ডাস্ট্রির এই জগত এই ফিকশনাল স্যাটায়ারের—ফিকটিটাস ক্যারেকটারের মুখেই প্রথম শুনছি আমি। সিনেমার শেষ অংশের দুই চরিত্রের মোলাকাতে সিনেমার মূল বার্তাটা অনুমান করা যায়।

আমার কাছে মনে হইছে সিনেমার কেন্দ্রীয় বিষয় হইতাছে ইচ্ছা বা চয়েস। যারা সিগারেট খান এবং যারা খান না উভয়ই মোটামুটি ভাল করেই জানি সিগারেট শরীরের জন্য তেমন ভাল কিছু না—একইভাবে আমাদের জীবনের এই ধরনের অনেক বিষয় বা অভ্যাস আছে যা আদতে আমাদের গ্রেটার গুডের জন্য ভাল না বা কোনো কাজে আসে না—কিংবা ক্ষতিকর। কিন্তু সেইটা করবার বা না করবার অধিকারটা কি বেশি গুরুত্বপূর্ণ?

smoking-3543

ছবির দৃশ্য

‘থ্যাঙ্ক ইউ ফর স্মোকিং’-এর নির্দিষ্ট কোনো কাহিনী ভিত্তি নাই—অনেকটা চরিত্রকেন্দ্রিক ন্যারেটিভ—কিন্তু সিনেমা জুড়ে দর্শককে এই ‘ইচ্ছা’ ব্যাপারটার সম্মুখীন হইতে হয়।

আমরা মূল চরিত্রের সিগারেটের পক্ষে সবগুলা যুক্তিই যে ফাঁপা তা ধরতে পারি, অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটাও বুঝি যে নিক যাদের জন্য কাজ করতেছে তারা অন্য যে কোনো সিনেমার লজিকে ভিলেন হিসেবেই গণ্য হবে। কিন্তু ‘থ্যাঙ্ক ইউ’ তাদেরকে এইভাবে প্রেজেন্ট করে না—বরং এই ইচ্ছাটা দর্শকের হাতে ছেড়ে দিছে।

আমরা জানি সিনেমার বাইরের জগতে এই সব ব্যাপারগুলি অহরহই ঘটছে। প্রতিনিয়ত বড় বড় কোম্পানি তাদের পণ্যের ব্যাপারে ভুল তথ্য দিছে ভোক্তাদের। নিকের মত হাজার হাজার লোক তাদের পকেটে। সিনেমাটা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নিকের কাজের ব্যাপারে কোনো  কৈফিয়ত দেবার চেষ্টাও করে নাই—বরং বাস্তব জগতের বড় বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের লবিং করার ক্ষমতা আর তার রাজনৈতিক ব্যাপ্তিরে একেবারে চাঁছাছোলা ভাবে দর্শকের সামনে চিত্রায়ণের চেষ্টা চালাইছে।

সিনেমার একেবারে শেষ দৃশ্যে সিনেটর একটা কংগ্রেশনাল হিয়ারিংয়ে নিকরে জিগায় তার ছেলে সিগারেট খাইতে চাইলে সে কি কিনা দিবে নাকি—নিক তখন উত্তর দেয় তার ছেলের বয়স আঠার হইলে তথা প্রাপ্তবয়স্ক হইলে সে যদি সিগারেট খেতে চায় তাহলে অবশ্যই সে নিজে কিনে দিবে!


Thank you for Smoking Trailer

নিক চয়েসের ব্যাপারটা আবার জোর দিয়া কইল। এই মূল জিনিসটাই সিনেমাটারে ধইরা রাখছে। সিনেমাটা নিজে কোনো উপসংহারে পৌঁছায় না—বরং এইটা দর্শকদের হাতে ছাইড়া দেয়।

‘থ্যাঙ্ক ইউ ফর স্মোকিং’-এর বিষয়বস্তু, মূল চরিত্র, সিনেমার বর্ণনার ভঙ্গী সব কিছুই চরম কন্ট্রোভার্সিয়াল, অথচ এইটা নিয়া কোনো কন্ট্রোভার্সি নাই। জেসন রাইটম্যানের এই সিনেমাটারে JUNO করা উচিত। বিশেষ কইরা আমাদের দেশের প্রেক্ষিতে যেখানে সিগারেটের প্যাকেটে ছবি সম্বলিত সতর্কবাণী ছাপানো হইতেছে।

thank-u-4

নিক চরিত্রে অ্যারন অ্যাকহার্ট

আমার ব্যক্তিগত মতামতে ‘থ্যাঙ্ক ইউ’ অসাধারণ ভাবে প্রত্যেকটা বিতর্কিত ইস্যু নিয়া জাগল করছে। সবচেয়ে বড় কথা সিনেমাটা একটা ইন্টারেস্টিং জগত তৈরি করছে যেইটা সফলতার সাথে দর্শককে এই ইস্যুগুলা নিয়া চিন্তা করায়।

এটা হয়ত ভালোবাসার মত কোনো সিনেমা না। কিন্তু তর্ক আর চিন্তা করার বিষয়বস্তুর অভাব নাই গোটা সিনেমাজুড়ে। আমি বলব এইখানে জেসন রাইটম্যান ভাল মুন্সিয়ানা দেখাইছেন। কমিডিক টোন বজায় রেখে ভয়াবহ সব বিতর্কিত বিষয়বস্তু সিনেমার কেন্দ্রে রাখছেন এবং কোনো নির্দিষ্ট উপসংহার টাইনা দর্শককে একমত হইতেও আহ্বান জানান নাই। ‘লর্ড অফ ওয়ার’ সিনেমায় আমরা মূল চরিত্রকে চরম অপরাধবোধে পতিত হইতে দেখি—ফলে অস্ত্র ব্যবসা যে খারাপ এই অনুভূতি দর্শকের সাথে সাথে সিনেমার পর্দায়ও তাই ভাষান্তরিত হয়। অথচ ‘থ্যাঙ্ক ইউ’র চরিত্রগুলা তাদের স্বকীয়তা বজায় রাখছে—কোনো ধরনের কৈফিয়ত প্রদানের চেষ্টাও করে নাই তাদের নৈতিকতার ব্যাপারে। ফলে সিনেমাটা হয়া দাঁড়াইছে যাকে বলে—open to interpretation, যেই সিনেমাটা দেখবেন সে তার মত করে তার হিরো—বা ভিলেন চুজ করে নিবেন—এই খোলামেলা অবস্থান সিনেমাটার গুরুত্ব বাড়ায় দিছে।

‘থ্যাঙ্ক ইউ’-এর সব যুক্তিতক্কোগপ্পো কেউই অকপটে মেনে নিবেন না—কিন্তু সিনেমাটা দেখতে দেখতে আপনি ধরতে পারবেন আপনাকে চিন্তার পরিসরে ঠেলে নিচ্ছে এই সিনেমার প্রতিটা চরিত্র। সব দেখা ও বলা শেষে জেসন রাইটম্যানের নির্মিত ‘থ্যাঙ্ক ইউ ফর স্মোকিং’-এর আমার ব্যক্তিগত রেটিং পাঁচে চার। আশা করব জেসন সাহেব জুনোর ঝামেলা কাটায় উঠে আবার এই ধরনের স্যাটায়ার উপহার দিবেন আমাদের।

About Author

তৌসিফ শাদলী

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে কিছুদিন কম্পিউটার সায়েন্সে ও ইন্জিনিয়ারিং এ পড়াশোনা করেছেন।

Comments

  1. Anonymous says:

    Visitor Rating: 5 Stars

  2. Anonymous says:

    Visitor Rating: 1 Stars