সোনারঙের দিন (২)

শেয়ার করুন!

শুরুর পর্ব

যে কথা শুনায়েছি বারেবারে

একটা বাঙালি কায়দা আছে, দরকারে অ-দরকারে রবীন্দ্রনাথকে উদ্ধৃত করা। যেখানে সেখানে। নাটক, নভেল। রবি ঠাকুরকে কোট করে দাও। এই যেমন আমি করলাম শিরোনামে।

সিনেমায় যেই গল্পটা বা অভিনয়টা ঝুলে যেতে বসেছে, লাগিয়ে দাও একটা রবীন্দ্রসঙ্গীত। “আমি পথভোলা এক পথিক এসেছি।”—সুদর্শন উত্তমকুমার, সুদর্শনা সুপ্রিয়া চৌধুরী। ব্যাস, বাঙালির চোখে জল এসে গেল!কিংবা, আড্ডা জমছে না নববর্ষের পার্টিতে? কোনো সুবেশা সুন্দরীকে দিয়ে একটা রবীন্দ্রনাথের গান গাইয়ে দাও।—”এমনি ক’রেই যায় যদি দিন যাক না।”

tagore-43
একটা বাঙালি কায়দা আছে, দরকারে অ-দরকারে রবীন্দ্রনাথকে উদ্ধৃত করা। যেখানে সেখানে।—লেখক

বাঙালির ফাটা রেকর্ড আবার জুড়ে গিয়ে নড়েচড়ে উঠে বসবে। বেসুরো আসর জমে উঠবে আবার। স্কুলের এলামনাই রিইউনিয়ন হচ্ছে, কিন্তু গ্যাদারিংটা কেমন যেন ম্যাড়ম্যাড়ে লাগছে? লাগিয়ে দাও “পুরানো সেই দিনের কথা।” আর চিন্তা নেই, সবাই দল বেঁধে লেগে পড়বে গাইতে। অতি বেসুরো গলাও সবায়ের মধ্যে পড়ে হাসবে। পার্টি ঝমঝমিয়ে মল বাজাবে।

তবে, এসব হচ্ছে আমাদের দিনের কথা। ষাট, সত্তর, এমনকী আশির দশক। পঁচাশি সালে দেশ ছেড়েছিলাম, এসব তার আগের কথা। যখন পার্টি মানেই মদের ফোয়ারা ছিল না। যখন পার্টি কথাটাই আমাদের কলকাতায় ঘরে ঘরে এত জনপ্রিয় হয় নি।

আমি বলছি সেই পশ্চিমবঙ্গের কথা, যখন আমরা একটু কম আমেরিকান ছিলাম, একটু কম ইন্ডিয়ান ছিলাম, আর একটু বেশি বাঙালি ছিলাম। যখন বাংলা ভাষায় কথা বলতে গিয়ে আমরা ভাবতামনা, শুদ্ধ বাংলায় কথা বললে লোকে আমাদের লুজার ভাববে। যখন আমরা মাথা উঁচু করে, গর্ব করে বাংলা ভাষায় হাসতাম, গাইতাম, খেলতাম, কাঁদতাম, রাগ করতাম, ঝগড়া করতাম, প্রেম করতাম। যখন, যশোর বর্ডারের ওপারে যে ভীষণ লড়াই চলছে, মনে মনে তার সঙ্গী হতাম আমরা। বাঙালি মুক্তিযোদ্ধাদের রক্তে আমাদের হৃদয় রাঙা হয়ে উঠতো। দেবদুলালি কন্ঠে রেডিওর খবর আবৃত্তি করতাম আমরা।

আমি বলছি সেই পশ্চিমবঙ্গের কথা, যখন রবীন্দ্রসঙ্গীত আর হিন্দি বলিউডি সিনেমার গান মুড়ি মিছরি এক দর হয়ে যায় নি। যখন কলকাতা বর্ধমান শিলিগুড়ি চন্দননগর টাকি হাসনাবাদ নবদ্বীপ রায়গঞ্জ নৈহাটি শ্যামনগর বজবজ সোনারপুর মাহেশ মহিষাদলে রথ রাস দুর্গাপুজো কালীপুজোর পর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বাংলা গান হতো, হিন্দি নাচ হতো না। যখন নির্মলেন্দু চৌধুরী, মানবেন্দ্র মুখোপাধ্যায়, শ্যামল মিত্র, প্রতিমা বন্দ্যোপাধ্যায় বা নির্মলা মিশ্রকে কোনো অনুষ্ঠানে দেখতে পেলে দেবদর্শনের অনুভূতি হতো। যখন অতুলপ্রসাদ, রজনীকান্ত, দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের গানের মর্যাদা ছিল বাঙালির ঘরে ঘরে। যখন বাঙালি জানতো, রবীন্দ্রসঙ্গীত বা নজরুল ইসলামের গান গাইতে গেলে একটু ক্লাসিক্যাল মিউজিকের ব্যাকগ্রাউন্ড থাকতে হয়। একটু রাগরাগিণীর জ্ঞান থাকতে হয়। একটু গলা সাধতে হয়। আর সবচেয়ে বড় কথা, গানের মানে বুঝে গাইতে হয়।

আশির দশকে দেশ ছাড়ার সময় পর্যন্ত অনেকটা এই রকমই ছিল।

 

২.

প্রধান তফাৎটা হয়ে গেল, যখন টিভি এসে রেডিও, সিনেমার হলগুলো, আর পাড়ার জলসাগুলোর সর্বনাশ করে দিয়ে চলে গেলো। গান যখন আর শোনার জিনিস থাকলো না, দেখার জিনিস হয়ে গেল। কল্পনা করার, অনুমান করার, চোখ বুজে ভাবার যে আশ্চর্য ক্ষমতা আমাদের সাধারণ বাঙালি ঘরের ছেলেমেয়েদের ছিল, তাকে জোর করে কেড়ে নিয়ে টিভিঅলারা আমাদের ওপর চাপিয়ে দিলেন যাকে ইংরিজিতে বলে ‘ইন ইয়োর ফেস’ সংস্কৃতি। অর্থাৎ, কল্পনা করার আর দরকার নেই। শিহরিত হবার আর দরকার নেই। এই নাও, সব কিছুই তোমাদের চোখের সামনে শো কেসে সাজিয়ে দিলাম। এখন আর কোনো কিছুই অজানা থাকবে না। সব কিছু একেবারে হাতে নিয়ে, ছুঁয়ে দেখতে পাবে।

পয়সা ফেলো, শো কেস থেকে খাবার নিয়ে খাও। যা চাও, তাই পাবে। অপ্রাপ্তি বলে কোনো কিছুই আর থাকবে না। গোপনতা বলেও না। সব কিছুই এখন একেবারে নিরাবরণ, উলঙ্গ।

এই শুরু হলো আমাদের ভোগকেন্দ্রিক সংস্কৃতির এক নতুন, ভয়ঙ্কর মাড়িয়ে দিয়ে চলে যাওয়া জয়যাত্রা। যেখানে নিষ্পেষিত হলো মানুষের সুকুমার প্রবৃত্তি, যার নাম ইম্যাজিনেশন।

তার আগে পর্যন্ত আমরা অন্যরকম বাঙালি ছিলাম পশ্চিমবঙ্গে, কলকাতায়, পাড়ায় পাড়ায়, অলিতে গলিতে। এখনকার মতো এত চালাক ছিলাম না হয়তো। একটু বোকা বোকা, চুপচাপ, লাজুক লাজুক ছিলাম। কিন্তু বাঙালি ছিলাম।

আমাদের উত্তর কলকাতায় বিডন স্ট্রিট থেকে গোয়াবাগান স্ট্রিটে যাবার যে কটা গলি বা সরু রাস্তা ছিল, তার মধ্যে একটা ছিল চানাচুরের গলি। মানে, সে গলিটা ছিল গলির গলি তস্য গলি, আর তার কোনো নাম বোধহয় ছিল না। আমরা চানাচুরের গলি বলেই জানতাম। সেই গলির বিডন স্ট্রিটের মুখটায় ছিল একটা চানাচুরের দোকান। চানাচুর, মুড়ি, বাদামভাজা, আম লজেন্স, লেবু লজেন্স, মুড়ি লজেন্স, হাতিঘোড়া বিস্কুট, নকুলদানা এইসব পাওয়া যেত। আর মাটির নিচের দিকে একটা জায়গায় গর্ত মতো ছিল, সেখানে বালি চাপা দিয়ে রাখা থাকতো বরফের স্ল্যাব। একটু হাতে পয়সা যাদের ছিল, তারা ওখান থেকে বরফ কিনে নিয়ে যেত মে জুন মাসে। আর শরবত খেত, ঘোল খেত, বা দু চারজন বিলাসী খেত অরেন্জ স্কোয়াশ আর কোকাকোলা। আমরা তাকিয়ে তাকিয়ে দেখতাম। ফ্রিজ তখনো খুব বর্ধিষ্ণু ঘর ছাড়া আসে নি। বরফ কিনে নিয়ে গিয়ে বেলের পানার শরবত, বা কালীপুজোর সময়ে সিদ্ধির শরবত খাওয়াটাই রেওয়াজ ছিল বেশি। কলকাতা তখন এত সাহেবি হয়ে যায় নি।

chanachurer-goli
চানাচুরের গলি।

একবার সেই চানাচুরের গলির মাঝামাঝি একটা জায়গায় বাঁশ, কাঠ, দড়ি, নীললালসবুজ কাপড় আর তেরপল দিয়ে স্টেজ বেঁধে কী একটা পুজোর পর সেখানে একটা গানের জলসা হলো। শুনলাম অনেক রাত পর্যন্ত চলবে। আমি যাবোই। কিন্তু বাবা আমাকে একা যেতে দেবে না। শেষকালে মা বললো, তুমি মাসির সঙ্গে যাও। আমার মাসি ছিল গানের পোকা। আমার ঘটিকাহিনি বইতে এই মাসি আর তার গানের নেশার কথা অনেক লিখেছি। আমার ছোটোমাসি শোভা, আমার থেকে বছর দশেকের বড়। এখনো বেঁচে আছে। কিন্তু কোমর ভেঙে পড়ে আছে। বাড়ির বাইরে যেতে পারে না। বিছানায় বসে বসে রেডিওতে গান শোনে। তা সে যাই হোক, মাসি রাতের খাওয়াদাওয়া হলে আমাকে নিয়ে গেল। বোধহয়, রাত আটটা নটায় জলসা শুরু হল।

সেই সরু চানাচুরের গলিটা লোকে লোকারণ্য। আলো জ্বলছে বড় বড়, মাইক বাজছে, কাঠের চেয়ারের পিঠের দিকে ইংরিজি এইচ লেখা। অতি আনকমফর্টেবল। আমাদের কাছে তাই অনেক ছিল। মাসি বোধহয় আগে কারুকে বলে রেখেছিল। দেখি, দুটো সিট আমাদের জন্যে একেবারে স্টেজের সামনের দিকে রাখা আছে। বসলাম। এত বড় বড় শিল্পী। শুধু রেডিওতে তাদের গান শুনেছি আগে। দেখি নি কখনো। সেই প্রথম ইলা বসুর গান শুনলাম সামনে বসে। “কত রাজপথ জনপদ ঘুরেছি, মরুভূমি সাগরের সীমানায়।” “গান ফুরানো জলসাঘরে।” ইলা বসুর কথাটাই মনে আছে। আর কে কে গেয়েছিল, আজ আর মনে নেই। আমি মনে হয় তখন ক্লাস ফাইভে না সিক্সে পড়ি। নির্মলা মিশ্র ছিলেন কি? কে জানে, সত্যি আর মনে নেই।

একটু রাত বাড়লেই মাসি বললো, বাবুয়া বাড়ি চলো, নইলে জিতেনদা রাগ করবে। জিতেনদা মানে আমার বাবা। মাসি ছোটমামা বড়মামা মেজোমামা এরা সব আমার বাবাকে জিতেনদা বলেই ডাকতো। জামাইবাবু বলে কখনো ডাকে নি। কারণ, বাবাকে ওরা চিনতো বাবা যখন আর এস এস করার সূত্রে বড়মামা বিশ্বনাথ আর তার এক কাকার ছেলে সোমনাথের মাধ্যমে আমার মামার বাড়ির সংস্পর্শে এসেছিল। ফলে, তখনকার সেই সংঘের জিতেনদা পরেও চিরকাল জিতেনদাই থেকে গেছে। শোভা আর আমার মেজোমামা মধুসূদন এখনো আছে। জিতেনদাও এখনো রয়েছেন। তাঁর বয়েস বিরানব্বই হলো এই ফেব্রুয়ারি মাসে। আর কেউ নেই।

এখন, জিতেনদা ভীষণ রাগী ছিলেন সেই সময়ে, আর এরা বাবাকে খুব ভয় পেতো। কী জানি কী বলে বসবে ফস করে। তাই বেশি রাত হবার আগেই, বোধহয় এগারোটা কি বারোটার সময়ে মাসি আমাকে পৌঁছে দিল বাড়ি, আর নিজে তারপর আবার চলে গেল সারারাতের সেই জলসা দেখতে। আরো অনেক শিল্পী এসেছিলেন। আমাদের সে সময়ে পাড়ায় পাড়ায় এরকম গানের জলসা লেগেই থাকতো। বেশির ভাগই ফ্রি। পয়সা দিয়ে জলসা আমি দৈবাৎ দু চারটে দেখেছি।

আমার মামার বাড়ি হরতুকি বাগান লেনের যেখানটায় ডাফ লেন এসে মিশেছে, সেখানে এখনো আছে স্কটিশ কলেজের ওগিলভি হোস্টেল। তার ঠিক পাশেই তখন একটা ফাঁকা জায়গা ছিল। একবার সেখানে রবীন্দ্র জয়ন্তী হল। কী করে যে ওরা টাকাপয়সা জোগাড় করত আমি জানি না। কী বিরাট বিরাট সব আর্টিস্ট! কেউ বাকি নেই। আমি তো আগে থেকে বলে-টলে সিট রেখে দিয়েছি, আফটার অল, আমার ছোটমামা বুদ্ধ হল পাণ্ডাদের একজন। শুনলাম, হেমন্ত মুখোপাধ্যায় আসবেন, আরো সব কে কে। আর কে কে আসবেন আমার জানার দরকার নেই, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের গান শুনতে আমি যাবই। সে যেখানেই হোক না কেন।

কিন্তু এমন ঝড় শুরু হলো কালবৈশাখীর।

পঁচিশে বৈশাখ কালবোশেখীর ঝড়ে একেবারে উড়ে চলে গেল। গান কী হবে, প্যান্ডেল উড়ে চলে যাচ্ছে। তারপর শুরু হলো ভীষণ মুষলধারে বৃষ্টি। মন-টন খুব খারাপ করে বাড়ি ফিরে এলাম। অনেক রাতে, নাকি তার পরের দিন সকালে ছোটমামা বুদ্ধ এসে বললো, চিন্তা নেই, সব ঠিক হয়ে গেছে। রোববার দুপুরবেলা আবার সেই আর্টিস্টরা আসবেন বলে কথা দিয়েছেন। সবাই আসতে পারবেন না, কিন্তু হেমন্ত মুখোপাধ্যায় আসবেন। কী আশ্চর্য লোক ছিলেন এই হেমন্ত মুখার্জী। এত বড় মাপের মানুষ, এত নিরহঙ্কার আমি কখনো দেখি নি। খোলা গলায় গান গাইতেন, খোলা মনে গরিব মানুষকে অর্থসাহায্য করতেন। আর কত চ্যারিটির প্রোগ্রামে যে বিনা পয়সায় গান গেয়ে গেছেন, তা গুণে শেষ করা যায় না।

রবিবার দুপুরবেলা আবার সেই একই জায়গায় শিবমন্দিরের দেয়ালের পাশে প্যান্ডেল। সামনে অগণিত জনতা কাঠের চেয়ারে। সাগর সেন, সুচিত্রা মিত্র, আর কে ছিলেন মনে নেই। স্বপন গুপ্ত এসেছিলেন। সেই অন্ধ মানুষ, সুপুরুষ, কিন্তু চোখ ঢাকা মোটা রোদ চশমায়। গেয়েছিলেন, “বৈশাখেরই ভোরের হাওয়ায়।” ও হ্যাঁ, সুমিত্রা সেন গেয়েছিলেন “আজিকে এই সকালবেলাতে বসে আছি আমার প্রাণের সুরটি মেলাতে।”

সব শেষে সেই প্রবাদপ্রতিম কণ্ঠ হেমন্ত মুখোপাধ্যায়। অতি সাধারণ পোশাক। সাদা শার্ট। ধুতি। কালো ফ্রেমের চশমা। একটা চেয়ারে বসা। আর সামনে আর একটা চেয়ারে হারমোনিয়াম। পাশে সেই পরিচিত মুখের তবলাসঙ্গত শিল্পী। আর সেই বুড়োমত মানুষটি, যিনি মন্দিরা বাজাতেন। কত জায়গায় যে এঁদের দেখেছি।

hemanta-m-2
সব শেষে সেই প্রবাদপ্রতিম কণ্ঠ হেমন্ত মুখোপাধ্যায়। অতি সাধারণ পোশাক। সাদা শার্ট। ধুতি। কালো ফ্রেমের চশমা।

তিরিশ চল্লিশটা রবীন্দ্রসঙ্গীত। কোথা দিয়ে যে সময় কেটে গেল। চোখ বন্ধ করে তন্ময় হয়ে আমরা সবাই শুনছি। কয়েকশো মানুষ। উত্তর কলকাতার এঁদো গলি হরতুকি বাগান লেন। ডাফ লেন। গোয়াবাগান স্ট্রিট। প্যারীমোহন সুর লেন। গোরাচাঁদ বোস রোড। প্যারি রো। কারবালা ট্যাংক লেন। মানিকতলা স্ট্রিট। এইসব জায়গার নিম্ন মধ্যবিত্ত মানুষ। সবাই রবীন্দ্রনাথের গান শুনতে এসেছে। পিনড্রপ সাইলেন্স। মহান শিল্পীদের গান শুনছে তারা। কেউ কথা বলছে না। কেউ জায়গা নিয়ে মারামারি করছে না। কেউ উঠে চলে যাচ্ছে না। কেউ কোনো অনুরোধও করছে না।

প্রবাদপ্রতিম শিল্পী গাইছেন। “নিশীথে কী কয়ে গেল মনে  কী জানি, কী জানি / সে কি ঘুমে সেকি জাগরণে” “আমার কণ্ঠ হতে গান কে নিল, নিল ভুলায়ে” “কেন আমায় পাগল করে যাস, নাগকেশরের ঝরা কেশর, ধুলার সাথে মিতা।” “এই কথাটি মনে রেখো তোমাদের এই হাসিখেলায় জীর্ণ পাতা ঝরার বেলায়” “নিত্য তোমার যে ফুল ফোটে ফুলবনে” “আমার মন চেয়ে রয় মনে মনে হেরে মাধুরী” “কাছে থেকে দূর রচিল কেন গো আঁধারে।/  মিলনের মাঝে বিরহকারায় বাঁধা রে” “আজি শরততপনে প্রভাতস্বপনে কী জানি পরান কী যে চায়।” আরো কত গান! সব শেষে “চলে যায় মরি হায়, বসন্তের দিন চলে যায়।”

ট্র্যান্স হলে মানুষ যে রকম একটা অতীন্দ্রিয় জগতে চলে যায়, আমিও সে রকমই চলে যেতাম এসব গান শুনে। বাহ্যজ্ঞান থাকত না আমার।

কতকাল হয়ে গেল। মনে হয়, এই যেন সেদিনের কথা।

(পর্ব ৩)

কমেন্ট করুন

মন্তব্য

SHARE
Previous articleছোট একটি শহরের আতিথেয়তার গল্প
Next article‘সুলতান’ এর কারণে আমির খানের ‘দাংগাল’ এর মার্কেটিং কৌশলে ব্যাপক রদবদল
পার্থ বন্দ্যোপাধ্যায়

পার্থ বন্দ্যোপাধ্যায় তিরিশ বছর ধরে আমেরিকায় আছেন। কলকাতায় ছিলেন জীবনের অর্ধেক। এখন স্থায়ীভাবে নিউ ইয়র্কের বাসিন্দা। মানবাধিকার, বিশেষত ইমিগ্র্যান্টদের অধিকার ও শ্রমিক ইউনিয়ন—এই দুই বিষয়ে পেশাদারিত্ব। ইলিনয় থেকে পি এইচ ডি করার পর বিজ্ঞান ছেড়ে সাংবাদিকতা ও হিউম্যানিটিস নিয়ে পড়াশোনা করেছেন কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটিতে। শৈশব থেকে রাজনৈতিক অঙ্গনের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। ১৫ বছরেরও বেশি সময় আর এস এস ও বিজেপির সাথে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত থাকার পর রাজনৈতিক ও আদর্শগত কারণে বেরিয়ে আসেন। তাদের সম্পর্কে বই ও নানা রচনা লেখেন। রাজনীতি ছাড়া বাংলা ও ভারতীয় সঙ্গীত, সাহিত্য, চলচ্চিত্র, নাটক, শিল্পকলা ইত্যাদি বিষয়ে আগ্রহ। সাংস্কৃতিক সংকট ও বিশ্বায়িত অর্থনৈতিক আগ্রাসন সম্পর্কে পার্থ বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Partha Banerjee) বিশ্লেষণ ইউটিউব ও ফেসবুকে পাওয়া যায়। রবীন্দ্রসংগীতে ও বাংলা আধুনিক গানে বিশেষ উৎসাহ। ২০১২ সালে কলকাতা থেকে রবীন্দ্রনাথের গানের সিডি “আরো একটু বসো” প্রকাশিত হয়। ২০১৬ সালে আত্মজীবনী ‘ঘটিকাহিনি’র প্রথম খণ্ড প্রকাশিত হয়। বাংলা ও ইংরাজিতে লেখেন। উইকিপিডিয়া লিংক: http://en.wikipedia.org/wiki/Partha_Banerjee

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here