স্কুল, ভার্সিটি, লেপটপ, ক্যামেরা, মার্ডার

0
12
শেয়ার করুন!

ড্রিম জার্নাল লিখতেছি বহুদিন ধরে। স্বপ্নটপ্ন যাই দেখি ঘুমের মধ্যে, সেইগুলা লিখে রাখি। স্বপ্ন যেহেতু খুব প্রাইভেট আর পার্সোনাল, এই লেখাগুলারে আমার স্ক্যান্ডাল ভিডিওর মতো ভাবা যাইতে পারে। সব ফাঁস কইরা দিলাম নিজেই। স্বপ্নগুলায় সেক্স আছে, ভায়োলেন্স আছে, কিছুই-নাইও আছে। অবদমনও থাইকা থাকতে পারে। স্বপ্ন, সব মনে থাকে না। ফলে একটু কাহিনীরও সম্ভাবনা আছে। আবার সব হারায়া যায়, তাও না। ফলে, এমনিতেই গল্প গল্প হওয়ার চান্স আছে। তো, আমার এইসব মনে-না-থাকা ও হারায়া-না-যাওয়া স্বপ্নগুলাই শব্দকল্পড্রিম

chingkhai-logo

স্কুল

স্কুলে কী জানি হইছে।

আমরা ক্লাস করার জন্য গেছি মনে হয়। তখন হঠাৎ কইরা গোলমাল শুরু হয়। দৌঁড়াদৌঁড়ি ছোটাছুটি ইত্যাদি।

chingkhoi-dream-1 ছোট সাইজের একটা প্রাণী। অনেকগুলা ছাড়া পাইছে। মেবি তাদের আস্ত সভ্যতা। কিংবা ঠিক ছাড়া পায় নাই। বরং তারা নিজেরাই বাইর হইছে। আর ইনটেনশনালি অ্যাটাক করছে। অ্যানার্কিস্ট রায়ট টায়ট হইতে পারে। তো সারা স্কুল তাদের আক্রমণে একটা নরক হইয়া উঠতেছে ক্রমশ।

আমি একটা পিস্তল হাতে নিয়া গুলি করি একটারে। একটা লেজার রশ্মি বাইর হয় আমার পিস্তল দিয়া। প্রাণীটা মূহুর্তেই অসার। জায়গায় কাইৎ। স্পটডেড। আমার পাওয়ার দেইখা আমি পুরাই মুগ্ধ।
তারপর আর মনে পড়তেছে না।

ভার্সিটি

সাইকেল। হাইট কম। সাইজ ছোট। চাকা প্লাস্টিকের। মনে হইল ঠকা খাইছি।

chingkhoi-dream-2সাস্ট গেইট। খাইতে খাইতে অনেক লেইট। ঘড়ি দেখি। সোয়া ৩টা। ফলে রাত জেগে ভোরে ফেরার সিদ্ধান্ত। ভোরের অপেক্ষায় হাঁটাহাঁটি। তখনই কড়া রোদে ভোর হাজির। রাত সাড়ে ৩ টা।

উপর থেকে ভিউ। যেন ২ বা ৩ তালা থেকে। নিচে, সামনে পাকা দেয়া লন। নিজেকে দেখি। এইবার বাচ্চা না। অ্যাডাল্ট। পা ধরে উল্টিয়ে পুকুর ঘাটে ধোপাদের কাপড় কাঁচার মতো করে বাড়ি মেরে ফিনিশ। ফ্লোরে রক্ত লেগে থাকে অল্প। মুছে ফেলার চেষ্টা করি। কারণ কে জানি চলে আসতেছে। ফলে একটা উত্তেজনা। ক্লাইমেক্স।

লেপটপ

আমার লেপটপ-এর স্ক্রিন আলগা হয়ে গেছে। দুইটা আলাদা পার্ট। স্ক্রিন আর কিবোর্ড আলাদা। শুধু স্ক্রিনটা হাতে নিয়া কাজ করা যায় ট্যাবের মতো। তবে টাচ স্ক্রিন না হওয়ায় কিবোর্ড মাউসের কমান্ড ঠিকই লাগে।

chingkhoi-dream-4একটা বেতার মাউস কিবোর্ড কিনতে হবে… তাইলে শুধু স্ক্রিনটা হাতে নিয়া কাজ করতে পারব… এইগুলা ভাবতেছিলাম।

কিন্তু পরে খেয়াল করি স্ক্রিনটা আলাদা হয়ে গেছে তো খুলে গিয়ে। ফলে বিষয়টা আসলে বেতার না। একটা তারের কানেকশন দরকার। ফলে স্ক্রিনটাকে অনেক দূরে নিয়ে যাওয়া যায় না। ধড়ের ধারে কাছে রেখেই কাজ করা লাগে। স্ক্রিনটাকে উলটেপালটে দেখতেছিলাম আমি।

ক্যামেরা

স্বপ্নে দেখলাম মামা (মা) উঠোনে বসে আছে। মামার গায়ে ফানেক আর নরম রোদ। বোধহয় স্নানে যাবে কিংবা স্নান শেষ। উঠোনে গাছ লতাপাতা। পেছনে লম্বা বারান্দার চৌচালা ঘর। এল শেইপ।

chingkhoi-dream-5মামাকে উঠোনে রেখে আমি ঘরে ঢুকে আমার ফিল্ম ক্যামেরাটা নিয়ে আসি। আর মামার ছবি তুলতে থাকি।

পা ছড়িয়ে মামা উঠোনের মাটিতে বসে থাকে। ক্যামেরা হাতে আমি তার পাশে দাঁড়িয়ে। মামাকে উপরে আমার দিকে তাকাতে বলি। মামা ক্যামেরার লেন্সে তাকায়। আমি ছবি তুলি। তারপর একটা টুল নিয়ে তাতে উঠে গিয়ে আরও উপর থেকে ছবি তুলি। তারপর মামাকে নিয়ে দাঁড় করাই একটা সাদা দেয়ালের সামনে। টুকরো জানালাসহ নতুন ফ্রেমে আরো কয়েকটা ছবি তুলি। তারপর আমার ক্যামেরা মরে যায়। তারপর মামা আর আমি আমরা দুজন আমার মৃত ক্যামেরাকে কবর দিই।

মার্ডার

আপনার গায়ে সাদা ফুলশার্ট। ইস্ত্রি নাই। চুল লম্বা আর ঝাকড়া। শ্যাম্পু নাই। দাঁড়ি গোঁফও ময়লা। পুরু কালো ফ্রেমের চশমাও বহুদিনের না-মোছা। আমরা একটা দোতলা বাসায়।

chingkhoi-dream-3একজন মধ্যবয়স্ক লোকের সাথে আলাপ শুরু করেন আপনি। কী কী যেন বলতে থাকেন। আপনার মনে হইতে থাকে লোকটা আসলে আপনার কথা শুনতেছে। কথা বলতে বলতে আপনি তার দুইহাত তুইলা নেন আপনার দুই হাতে। যেন জ্যোতিষী আপনি। যেন হাত দেখতেছেন। লোকটা বোধহয় চোখ বন্ধ কইরা থাকে বা অন্যদিকে তাকায়া থাকে। আপনি একটা ছুরি বাইর করেন আলগোছে। হালকা পাতলা। কিন্তু ধারালো। তো আপনি ছুরি চালায়া দেন উনার ডান হাতে।

লোকটারে মেবি মিউট করে রাখা হইছে। কোনো শব্দ নাই।

এরপর তারে জানলার কাছে নিয়া যাওয়া হয়। লোকটা যেইখানে দাঁড়ায়া ছিল এতক্ষণ তার পিছনে একটা খোলা জানলা ছিল।

তো লোকটা পিছন ফিরলে আপনি তার পিঠে কোপ মারেন একটা। মেরুদণ্ডের বামদিকে। গভীর। তারপর ডুইবা থাকা ছুরিটা একটানে বের কইরা আনেন। আবার কোপ মারেন মেরুদণ্ডের ডানদিকে। এইবার লক্ষ্য একটু কম ভালো। ফলে হাড্ডিগুড্ডিতে আটকায়া যায় বোধহয় ছুরি। পুরোটা ঢোকে না তাই। যাই হোক। লোকটা মইরা যায়।

আমাদের পালানো জরুরি।

আমি তড়িঘড়ি শুরু করি। আপনি দেখি খুব রিলাক্স। ইলেকট্রিসিটি চইলা যায় বোধহয় তখন। ক্লিশে একটা অন্ধকার আমাদের ইনস্ট্যান্টলি গিইলা ফেলে। আমি সিঁড়ি দিয়া নামতে থাকি দ্রুত। আপনারেও ডাকি। আপনার নামার নামগন্ধ নাই।

সিঁড়ি দিয়া নাইমা অন্ধকারের পেট থিকা বাইর হয়া দূরে সইড়া পড়ি আমি। আপনি দেখি তাও আসেন না। ফলে আপনারে ফোন দেই। আপনি ফোন ধইরাই বলেন, এই বুচ্ছো, আমার মনে হয় সন্ধ্যা পর্যন্ত থাকতে হবে। এরা পুরা একটা ফ্যামিলির মতো থাকে সবাই। তো লোকটার বড় আপা আমারে দেখে ফেলছে বুচ্ছো। সো তুমি এক কাজ করো। তুমি যাও গা।

কমেন্ট করুন

মন্তব্য

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here