page contents
সমকালীন বিশ্ব, শিল্প-সংস্কৃতি ও লাইফস্টাইল

স্কুল শুরু করা উচিৎ সকাল দশটার পরে—ঘুম-বিশেষজ্ঞ পল কেলি

এখনকার প্রায় সব তরুণ-তরুণী সপ্তাহে প্রায় ১০ ঘণ্টা ঘুমের ঘাটতিতে থাকে। ঘুম-বিশেষজ্ঞ পল কেলি বলেন, আজকের দুনিয়ায় তরুণ প্রাপ্তবয়স্করা কম ঘুমে ভূগছে।

ইউনিভার্সিটি অব অক্সফোর্ডের সার্কাডিয়ান নিউরো সায়েন্স ইন্সটিটিউটে কাজ করেন কেলি। তিনি গার্ডিয়ানকে বলেছেন, এটা বেশ গুরুতর সমস্যা। এ সমাজ ঘুম-বঞ্চিত, তবে ১২-১৪ বয়সীরা অন্যদের চাইতে বেশি ঘুম-বঞ্চিত। স্বাস্থ্য, মেজাজ ও মানসিক সুস্থতার দিক থেকে এই অবস্থা সমাজে বিরাট ঝুঁকি তৈরি করছে।

কেলি বলেন, ৮-১০ বছর বয়সীদের স্কুল শুরু হতে পারে সকাল সাড়ে আটটায়। কিন্তু ১৬ বছর বয়সীদের ক্লাস শুরু হওয়া উচিৎ সকাল দশটায় এবং ১৮ বছর বয়সীদের সকাল ১১টায়। অতি সকালে প্রাপ্তবয়স্কদের রক্তে প্রয়োজনীয় হরমোনের নিঃসরণ শুরু হয় না, তাই তারা অত সকালে ঘুম থেকে উঠতে পারে না।

এটা অদ্ভুত শোনালেও এর পিছনে আছে বিজ্ঞান। যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল স্লিপ ফাউন্ডেশনের মতে, কম বয়সীদের মেলাটোনিন নিঃসরণ শুরু হয় না, এই মেলাটোনিন হরমোন রাত এগারোটা বা তার কাছাকাছি সময় পর্যন্ত শরীরের শরীরের ঘড়ি নিয়ন্ত্রণ করে।

কেলি বলেন, ৮-১০ বছর বয়সীদের স্কুল শুরু হতে পারে সকাল সাড়ে আটটায়। কিন্তু ১৬ বছর বয়সীদের ক্লাস শুরু হওয়া উচিৎ সকাল দশটায় এবং ১৮ বছর বয়সীদের সকাল ১১টায়। অতি সকালে প্রাপ্তবয়স্কদের রক্তে প্রয়োজনীয় হরমোনের নিঃসরণ শুরু হয় না, তাই তারা অত সকালে ঘুম থেকে উঠতে পারে না।

তাছাড়া, সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের মতে, আমেরিকার ৪২টি রাজ্যে সকাল সাড়ে আটটার আগেই ৭৫ শতাংশ স্কুল শুরু হয়ে যায়। গড়ে সাধারণত ৮ টা ৩ মিনিটে শুরু হয় স্কুল।

কেলি বলেন, দশ বছর বয়সে আপনি সকালে উঠে স্কুলে যান এবং পরে আমাদের নয়টা-পাঁচটা জীবনের সাথে তা মানিয়ে যায়। ৫৫ বছর বয়সেও আপনি একই পদ্ধতি মেনে চলেন। কিন্তু এরমধ্যে অনেক পরিবর্তন আসে, আপনার বয়সের ওপর নির্ভর করে আপনার আরো তিনঘণ্টা পরে কাজ শুরু করা উচিৎ, এবং এটা সম্পূর্ণই প্রাকৃতিক।

কম ঘুম সারাদিনে আপনার মেজাজ, কাজ ও পরীক্ষায় ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। আপনার পরিবারের লোকদের সাথে আপনার সম্পর্কের ক্ষেত্রেও ঘুম এবং এর অভাব প্রভাব ফেলতে পারে। আমাদের অস্তিত্বের একটা গুরুত্বপুর্ণ অংশ ঘুম। আমাদের জীবনের এক-তৃতীয়াংশ ঘুমিয়েই কাটে।

সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের পপুলেশন হেলথ বিভাগের এপিডেমিওলজিস্ট অ্যানে হোয়েটন বলেন, ছাত্রদের স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা এবং একাডেমিক পারফরম্যান্সের জন্য যথেষ্ট ঘুম খুব গুরুত্বপূর্ণ। খুব সকালে স্কুল শুরু হওয়ায় কিশোর বয়সীরা প্রয়োজনীয় ঘুম ঘুমাতে পারছে না। এতে শুধু বাচ্চারাই না, আরো অনেকেই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

ব্র্যাডফোর্ডে ব্রিটিশ সায়েন্স ফেস্টিভ্যালে কেলি বলেছেন, সবাই এই কারণে ভুগছে এবং তাদের ভুগতে হবে না। স্টাফদের উচিৎ সকাল দশটায় স্কুল শুরু করা। তারা সাধারণত ঘুমের অভাবে থাকেন।

কেলি আগে যুক্তরাজ্যের মঙ্কসেটন হাই স্কুলে প্রধান শিক্ষক ছিলেন। সেখানে একটা তাৎক্ষণিক গবেষণায় ছাত্রদের জন্য সকাল দশটায় স্কুল শুরু নির্ধারণ করা হয়। এতে ভালো রেজাল্ট  বেড়ে গিয়েছিল। কেলি এখন টিনেজারদের ঘুম নিয়ে কাজ করছেন। এর লক্ষ্য, ইউকের ১০০ স্কুল পরীক্ষামূলকভাবে সকালের নানা সময়ে শুরু করা।

ঘুমের অভাব স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর তা সবাই জানেন। তবে একবারে বেশি ঘুমানোও ভালো পদ্ধতি না। গবেষণায় দেখা গেছে, রাতে ঘুমের সময়কে দুই ভাগে ভাগ করলে সুবিধা পাওয়া যায়। আবার অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, দিনে হালকা ঘুমানো উপকারী। আবার এটাও হতে পারে যে একেকজনের ঘুমানোর ধরন আলাদা আলাদা। কারো জন্য হয়ত রাতে দুই ভাগে ঘুম ভালো বা কারো জন্য দিনে হালকা ঘুমানো কাজের হতে পারে।

এমনিতে আমাদের প্রতিদিনের জীবনে ঘুম কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা বিশেষজ্ঞদের বলার অপেক্ষা রাখে না। আমাদের মস্তিষ্ক যখন কাজ করতে করতে ক্লান্ত হয়ে যায়, তখন আবার পুর্ণ উদ্যমে ফেরার জন্য মস্তিষ্কের প্রয়োজন হয় শুধু একটু ঘুম।

কমেন্ট করুন

মন্তব্য

About Author

সাম্প্রতিক ডেস্ক

Leave a Reply