page contents
লাইফস্টাইল, সংস্কৃতি ও বিশ্ব

স্বাস্থ্য বিষয়ক ১০ মিথ্যা

১. প্রতিদিন ৮ গ্লাস পানি খেতে হবে

health-myth-1

গ্লাস গুণে পানি খাওয়ার দরকার নেই।

গবেষণায় দেখা গেছে যারা পিপাসা পেলেই এক গ্লাস পানি খায় তারা সুস্থ থাকে এবং ডিহাইড্রেশনে ভোগে না।

যেসব খাবারে পানি বেশি থাকে, যেমন স্যুপ, ফল সবজি এবং বিভিন্ন পানীয় যেমন জুস, চা, কফি ইত্যাদি থেকে আপনার শরীরের পানির চাহিদা পূরণ হয়। আপনার প্রস্রাব যদি গাঢ় হলুদ হয় তাহলে আপনার আরো পানি খাওয়া দরকার।

তবে প্রস্রাব হলুদ হওয়ার অর্থই এই নয় যে আপনি অসুস্থ। এর কারণ হতে পারে আপনি হয়ত নিয়মিত প্রস্রাব করছেন না বা আপনি হয়ত সারাদিন প্রচুর পরিশ্রম করছেন বা আপনি হয়ত এমন জায়গায় থাকেন যেখানে আবহাওয়া অনেক গরম।

২. ডিম হার্টের জন্য খারাপ

health-myth-2

যারা ডিম ভালোবাসেন তাদের জন্য এটা আনন্দের খবর। দিনে একটা অথবা দুইটা ডিম খেলে সুস্থ মানুষের হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে না।

ডিমের কুসুমে কোলেস্টেরল থাকে তা সত্য, কিন্তু অন্য সব খাবারে যে ফ্যাটের মিশ্রণ থাকে তার চেয়ে কুসুম কম ক্ষতিকর।

ডিমে বরং ওমেগা-৩ থাকে যেটা হার্টের জন্য ভালো।

৩. ডিওড্রান্ট ব্যবহার করলে স্তন ক্যান্সার হয়

health-myth-3

অনেকে মনে করে থাকেন, বগলের নিচে ডিওড্রান্ট ব্যবহার করলে বগলের নিচের স্তন টিস্যু সেগুলি শোষণ করে এবং পরবর্তীতে তা স্তনে টিউমার তৈরি করে, আর এই টিউমার থেকে ক্যান্সার হয়। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ক্যান্সার ইনস্টিটিউট বলছে ডিওড্রান্ট বা এই ধরনের জিনিসের সাথে স্তন ক্যান্সারের সম্পর্কের কোনো সরাসরি প্রমাণ নেই।

৪. ঠাণ্ডায় থাকলে ঠাণ্ডা/সর্দি লাগে

health-myth-4

ঠাণ্ডা আবহাওয়ায় বেশিক্ষণ থাকলে বা ঠাণ্ডা বাতাসের কারণে আপনার ঠাণ্ডা বা সর্দি হয় না।

একটি গবেষণায় দেখা গেছে যেসব সুস্থ মানুষজন খুব ঠাণ্ডা আবহাওয়ায় বেশি সময় থাকে তাদের মধ্যে ভাইরাস প্রতিরোধী ক্ষমতা ও সুস্থ থাকার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। আপনি মূলত জীবাণুর কারণে অসুস্থ হন, আবহাওয়ার কারণে নয়।

৫. প্রতিদিন একটা করে মাল্টিভিটামিন খাওয়া দরকার

health-myth-5

আপনি হয়ত কোথাও শুনেছেন যে আপনার প্রতিদিনের পুষ্টিচাহিদা পূরণের জন্য আপনার মাল্টিভিটামিন দরকার। কিন্তু গবেষকদের সবাই এই পয়েন্টের সাথে একমত নয়। তবে আপনার ডাক্তার যদি আপনাকে মাল্টিভিটামিন গ্রহণের পরামর্শ দিয়ে থাকে তাহলে তা গ্রহণ করুন।

আর আপনি যদি গর্ভবতী হন তাহলে সন্তান জন্মদানের সময়ের সমস্যা এড়ানোর জন্য আপনার ফলিক এসিড গ্রহণ করা দরকার। আপনার প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় ফল, সবজি, দানা জাতীয় শস্য, বাদাম, স্বাস্থ্যকর তেল থাকলেই আপনার পুষ্টি চাহিদা পূরণ হবে।

৬. ওজন কমাতে চাইলে সকালের নাস্তা বাদ দেওয়া যাবে না

health-myth-6

কিছু কিছু মানুষের ক্ষেত্রে সকালের নাস্তা ওজন কমাতে সাহায্য করে, কারণ এর ফলে সহজে ক্ষুধা অনুভূত হয় না। এবং দিনে যখন তখন খাওয়ার অভ্যাস এড়িয়ে চলা সম্ভব হয় সকালের নাস্তার অভ্যাস ঠিক থাকলে।

কিন্তু সবার জন্যে এই ওজন কমানোর ব্যাপারটি সত্য নয়।

কর্নেল ইউনিভার্সিটির গবেষণায় দেখা গেছে সকালে নাস্তা করে না এমন অনেক ব্যক্তিই দুপুরের খাবার এবং রাতের খাবারে অতিরিক্ত খাবার গ্রহণ করে না, অর্থাৎ সকালের না খাওয়ার ব্যাপারটি তারা দুপুর অথবা রাতের খাবার দিয়ে পূরণ করে না। ফলে দিনে তারা অন্তত ৪০০ ক্যালরি খাবার কম গ্রহণ করে। তাহলে দাঁড়াচ্ছে যে, সকালের নাস্তা না করা অনেকের ক্ষেত্রে বরং ওজন কমানোতে সাহায্য করে।

৭. কফ বা শ্লেষ্মা সবুজ হওয়া মানেই ইনফেকশন

health-myth-7

গবেষণায় দেখা গেছে, কফ বা শ্লেষ্মা সবুজ বা হলুদ বর্ণের হয় সাধারণত এক ধরনের নির্দিষ্ট ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ বা ইনফেকশনের ফলে। তবে কফ বা শ্লেষ্মা সবুজ বা হলুদ হলেই আপনার ইনফেকশন হয়েছে এবং আপনাকে অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ করতে হবে তা নয়। ইনফেকশন হওয়ার পরও অনেক সময় কফ বা শ্লেষ্মা পরিষ্কার বর্ণহীন হতে পারে এবং ইনফেকশন না হলেও অনেক সময় কফ বা শ্লেষ্মা সবুজ বর্ণের হতে পারে।

৮. চিনি খেলে শিশুদের শক্তি বাড়ে

health-myth-8

চিনি শিশুদের জন্য ভালো নয়। গবেষণায় দেখা গেছে মিষ্টি জিনিস খেলে শিশুদের সক্রিয়তা কমে যায়, স্কুলের হোমওয়ার্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়, মনোযোগ দেওয়ার ক্ষমতা কমে যায়।

৯. টয়লেটের কমোড বা প্যান থেকে আপনি অসুস্থ হতে পারেন

health-myth-9

আপনি যদি টয়লেটের সিট ঢেকে না রাখেন তবে তাতে সমস্যা নেই। টয়লেটের সিটে তেমন জীবাণু থাকে না। বরং বাথরুমের দরজা, দরজার হ্যান্ডেল, বাথরুমের মেঝেতে ই.কলি, নরোভাইরাস (স্টমাক ফ্লু বলে পরিচিত) এবং অন্যান্য জীবাণু থাকে।

বাথরুমের দরজা অথবা হ্যান্ডেল ধরার পরে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করুন অথবা হাত ধুয়ে ফেলুন।

১০. হাড় ফুটালে আরথ্রাইটিস হয়

health-myth-10

আপনি হয়ত মনে করেন হাড় ফুটালে হাড়ের জয়েন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়, কিন্তু তা সত্যি না।

হাড়ের সংযোগস্থলে এক ধরনের গ্যাস থাকে, এই গ্যাসের বুদবুদ থেকে এই শব্দ হয়।

আপনার যদি হাত বা আঙুল ফোটানোর অভ্যাস থাকে তাহলে তা চালু রাখতে পারেন। এর সাথে হাড়ের আরথ্রাইটিস হওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই। তবে হাড় ফুটানোর সময় যদি খুব ব্যথা অনুভব করেন তাহলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

সূত্র: webmd.com

About Author

সাম্প্রতিক ডেস্ক