page contents
Breaking News

১১০ কিলোমিটার লম্বা প্রজাপতির ঢেউ ধরা পড়ল রাডারে

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া অধিদপ্তর বিস্ময়কর ছোপ ছোপ রঙের একটি ছবি প্রকাশ করেছে। এতে দেখা যায় ডেনভার এবং এর আশেপাশের কয়েকটি প্রদেশের আকাশসীমা জুড়ে বিপুল পরিমাণ ছোপ ছোপ রঙ ছড়িয়ে পড়েছে। এই রঙের উৎপত্তি সম্পর্কে আবহাওয়াবিদেরা এখনো নিশ্চিত হতে পারেন নি।

অক্টোবরের ৩ তারিখ মঙ্গলবার পর্যন্ত বিশেষজ্ঞদের ধারণা ছিল, অসংখ্য পাখি দলবদ্ধভাবে ওড়ার কারণে এমনটি ঘটেছে। পরদিন তারা আরেকটি চমকপ্রদ সম্ভাবনা আবিষ্কার করেন: ‘মাইগ্রেটিং বাটারফ্লাই বা দেশান্তরী প্রজাপতি’। তাদের মতে, ঝাঁক বেঁধে উড়তে থাকা দেশান্তরী প্রজাপতিদের কারণেই এরকমটি ঘটেছে।

তবে বুলডার মেটিওরোলজি বিভাগের লোকজন এই অনুমানকে প্রথমে অস্বীকার করে। তাদের মতে, প্রজাপতি বা অন্য কোনো কীটপতঙ্গের পক্ষে এরকম সুস্পষ্টভাবে রাডার সংকেতে ধরা পড়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

কিন্তু বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারীদের সাহায্য নিয়ে তারা পরবর্তীতে আবিষ্কার করেন, বড় ডানাওয়ালা এবং এলোমেলোভাবে ছড়িয়ে পড়া কীটপতঙ্গ আসলেই রাডার সংকেতে ধরা পড়তে পারে। তবে সেক্ষেত্রে তাদেরকে একই সময়ে একই দিকে দল বেঁধে যাত্রা করতে হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সবগুলো সম্ভাবনার মধ্য থেকে ‘দেশান্তরী প্রজাপতির’ সম্ভাবনাটিই সবচেয়ে বেশি যুক্তিসঙ্গত।

এদিকে দ্য প্রেইরি ইকোলোজিস্টদের মতে, বছরের এই সময়টি হল ‘পেইন্টেড লেডি’ নামক কমলা-কালো বর্ণের একধরনের প্রজাপতির দেশান্তরের ঋতু যারা এখন উত্তর থেকে দক্ষিণে যাত্রা করছে। যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ পশ্চিম কিংবা উত্তর মেক্সিকো থেকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যাঞ্চল পর্যন্ত এরা পরিভ্রমণ করে।

রাডার সংকেতে ধরা পড়া ছবিতে দেখা যায়, প্রজাপতিগুলি প্রায় ৭০ মাইল বা ১১০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। বাতাসের দিক অনুসরণ করে গত মঙ্গলবার পর্যন্ত প্রজাপতিগুলি উড়ে গেছে উত্তর-পশ্চিমের দিকে।

বিশেষজ্ঞরা এটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হিসেবে বিবেচনা করছেন। এই তথ্যটি মাইগ্রেটরি বা  পরিযায়ী পাখিদের সোজা দক্ষিণ দিকে যাত্রা করার সম্ভাবনাকে সমর্থন করে। তবে, বাতাসের গতিবেগ অনুসরণ করার কারণে প্রজাপতিদের গতিপথ পাখিদের থেকে কিছুটা ভিন্ন হতে পারে।

গত কয়েক সপ্তাহ যাবৎ ডেনভারে আবির্ভূত ‘ইন্টেড লেডি’র সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। এরা খাদ্যের জন্যে স্থানীয় অঞ্চলের ফুলের উপর নির্ভর করছে এবং দলবদ্ধভাবে উড়ছে। সারাহ গেরেট নামের কলোরাডোর ওয়েস্টমিনিস্টারের ‘বাটারফ্লাই প্যাভিলিয়ন’-এর এক প্রজাপতি বিশারদ জানিয়েছেন, ডাকোটার মত দূরবর্তী অঞ্চলের মানুষেরাও প্রজাপতি দেখেছেন বলে জানিয়েছেন। প্রজাপতির ঝাঁক উড়ে যাচ্ছে সেসব অঞ্চলের দিকে যেখানে প্রচুর পরিমাণে ফুল রয়েছে।

উত্তর আমেরিকায় ‘পেইন্টেড লেডি’ নিয়ে খুব একটা গবেষণা হয় নি। তবে বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন গ্রীষ্ম ও শীতকালের মধ্যবর্তী সময়ে এদের অভিপ্রয়াণ বা মাইগ্রেট ঘটে। অভিপ্রয়াণের সময় এরা যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পশ্চিম এবং মেক্সিকোর উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলের দিকে চলে যায়।

ইউরোপে রেডিও ট্র্যাকিং ব্যবহার করে দেখা গেছে এদের অভিপ্রয়াণের পথ ইউরোপের দক্ষিণ থেকে আফ্রিকার দিকে এবং বসন্তকালে এরা আবার ইউরোপে ফিরে আসে।

গেরেট আরো বলেন, গবেষণায় দেখা গেছে ‘মোনার্ক বাটারফ্লাই’ নামক আরো বড় আকৃতির এক ধরনের প্রজাপতি অভিপ্রয়াণের সময় বাতাসের সাহায্য নিয়ে ভেসে যায়। যুক্তরাষ্টের বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, একটি মোনার্কের একদিনের দীর্ঘতম যাত্রা ছিল ২৫০ মাইলেরও বেশি।

কমেন্ট করুন

মন্তব্য

About Author

সাম্প্রতিক ডেস্ক

Leave a Reply