page contents
লাইফস্টাইল, সংস্কৃতি ও বিশ্ব

১২৭ বছর পর তোলা হচ্ছে জ্যাক দ্য রিপারের শেষ ভিকটিমের লাশ!

জ্যাক দ্য রিপারের হাতে খুন হওয়া সর্বশেষ ভিকটিমের মরদেহ তোলা হবে কবর থেকে। উদ্দেশ্য একটাই—দুনিয়ার সবচেয়ে কুখ্যাত এই সিরিয়াল কিলারের পরিচয় বের করা।

কিন্তু ১২৭ বছর পর ভিকটিমের মরদেহ তুলে খুনীর পরিচয় মিলবে কীভাবে?

পরিচয় মিলবে, কেননা রিপার লোকটা আসলে কে ছিল এ নিয়ে নতুন এক তত্ত্ব সঠিক কিনা, এর মধ্য দিয়ে সেটা যাচাই করা যাবে।

জ্যাক দ্য রিপারের পরিচয় নিয়ে নতুন একটি তত্ত্ব দিয়েছেন ড. ওয়েইন ওয়েস্টন-ডেভিস তার বই দ্য রিয়াল মেরি কেলি-তে। বইটিকে কেন্দ্র করে নতুন শোরগোলের মুখে ব্রিটেনের বিচার মন্ত্রণালয় ইঙ্গিত দিয়েছে, তারা মেরি জেন কেলি নামে ইস্ট এন্ড এলাকার এক বেশ্যার মরদেহ কবর থেকে তোলার অনুমতি দেবে।

মেরি কেলি রিপারের হাতে খুন হওয়া লন্ডনের পাঁচ বেশ্যার একজন।

marie-34

ড. ওয়েইন ওয়েস্টন-ডেভিসের বই ‘দ্য রিয়াল মেরি কেলি’

লন্ডনের হোয়াইট চ্যাপেলের দারিদ্র্য জর্জরিত এলাকায় সক্রিয় রহস্যময় এই সিরিয়াল কিলারকে জ্যাক দ্য রিপার নামে ডাকা হলেও লোকটা যে কে ছিল, আজও শনাক্ত করা যায় নাই। ওই সময় থেকে (১৮৮৮) একের পর কয়েকশ তত্ত্ব চালু আছে রিপারের পরিচয়ের। সে সময়ের পত্রপত্রিকায় তাকে ‘হোয়াইট চ্যাপেল মার্ডারার’ ও ‘লেদার অ্যাপ্রন’ও ডাকা হচ্ছিল।

নতুন তত্ত্বে ড. ওয়েইন ওয়েস্টন দাবি করছেন, রিপার লোকটির আসল নাম ফ্রান্সিস স্পারঝেইম ক্রেইগ। তিনি আর কেউ নন, মেরি কেলির নিজের স্বামী। ক্রেইগ পেশায় ছিলেন সাংবাদিক। ১৯৮৮ সালে যখন হত্যাকাণ্ডগুলি একের পর এক ঘটতে থাকে, তখন তিনি লন্ডনের ইস্ট এন্ড এলাকার পুলিশ কোর্ট বিটে রিপোর্ট করতেন।

Suspect Francis-Spurzheim-Criag

চিহ্নিত সাংবাদিক ফ্রান্সিস স্পারঝেইম ক্রেইগ

কেন নিজের স্ত্রীকে খুন করতে গেলেন ক্রেইগ?

ড. ওয়েস্টন বলছেন, ক্রেইগ এই কাজ করেছেন প্রতিশোধ নিতে। ১৮৮৫ সালে কেলিকে বিয়ে করেন ক্রেইগ। বিয়ের আগে কেলি বেশ্যাবৃত্তি করতেন। বিয়ের পর কিছুদিন সুখেই কাটছিল দুজনের। কিন্তু কেলি গোপনে আবার তার স্বৈরিনী ব্যবসায় ফিরে যান। ফলে ক্রেগের প্রতিশোধ।

তবে প্রতিশোধ নিতে গিয়ে ক্রেইগ খুবই বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেন। সেটা এমন এক অভিনব বুদ্ধি, যা অনেককে ব্যোমকেশের গল্প ‘সজারুর কাঁটা’র কথা মনে করিয়ে দিতে পারে। মটিভ লুকোনোর জন্য ক্রেইগ কেলিকে খুন করার আগে আরো চার বেশ্যাকে একে একে খুন করেন, যাতে মনে হয় কোনো সিরিয়াল কিলারের কাজ এটি, যার নিজস্ব কোনো মটিভ লাগে না।

White-Chapel-Prostitutes

সে সময়কার হোয়াইট চ্যাপেলে বেশ্যাবৃত্তি

‘সজারুর কাঁটা’ গল্পেও কলকাতার রাস্তায় একে একে পথচারীদের খুন করা হচ্ছিলো বুকে সজারুর কাঁটা বিঁধিয়ে দিয়ে। উদ্দেশ্য, সবার শেষে বিশ্বাসঘাতক প্রেমিকাকে একই পদ্ধতিতে হত্যা করা।

কিন্তু মৃতদেহ তুলে কী করা হবে?

ডিএনএ টেস্ট। ড. ওয়েস্টনের দাবি, কেলি ছিলেন তার নিজের খালার খালা। সেটা প্রমাণ করাই যায়।

Jack-The-Ripper-Tattoo-Sleeve

শিল্পীর চোখে জ্যাক দ্য রিপার

কেলির মরদেহ তোলার অনুরোধ এর আগেও করা হয়েছে। তবে ড. ওয়েস্টনের দাবি এবার জোরালো। আত্মীয়ের মরদেহ তুলতে যাচ্ছেন তিনি।

বিচার মন্ত্রণালয় বলেছে, তারা অনুমতি দেবে, তবে ড. ওয়েস্টনকে এমন একটি ল্যাবোরেটরির চিঠি দেখাতে হবে, যারা ডিএনএ টেস্ট করতে আগ্রহী।

About Author

সাম্প্রতিক ডেস্ক