“১৬ কোটি মানুষের ৩২ কোটি গল্প আছে, গল্পগুলি মানুষকে জানানো উচিত।”—শাহনেওয়াজ কাকলী

0
17
শেয়ার করুন!

বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের নদীতীরবর্তী মানুষজনকে ঘিরে আবর্তিত হয়েছে ‘নদীজন’ ছবির কাহিনি। এ ছবি বানাতে গিয়ে যেসব সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিলেন  নির্মাতা শাহনেওয়াজ কাকলী তা এসেছে এই সাক্ষাৎকারে।  উল্লেখ্য ‘উত্তরের সুর’ ছবির মাধ্যমে চলচ্চিত্র পরিচালনার শুরু শাহনেওয়াজ কাকলীর। ‘উত্তরের সুর’ মুক্তি পায় ২০১২ সালে। আর নদীজন ২০১৫-তে।  নদীজন মুক্তির আগে আগে শাহনেওয়াজ কাকলীর পরিবাগের বাসার ছাদে ইন্টারভিউটি গৃহীত হয়।

‘নদীজন’ (২০১৫) ছবি নিয়ে শাহনেওয়াজ কাকলীর সাক্ষাৎকার

সাক্ষাৎকার: সাঈদ রূপু


সাঈদ রূপু

শেখ জহুরুল হকের গল্প অবলম্বনে ‘নদীজন’ এর চিত্রনাট্য করেছেন আপনি। উনি যেই টাইমটা নিয়ে লিখেছেন, আপনিও কি সেই একই টাইম রাখছেন আপনার চিত্রনাট্যে?

শাহনেওয়াজ কাকলী

হ্যাঁ, আমি একই রেখেছি। একটা মাঝির গল্প ছিল। উপন্যাসে বর্ণনা ছিল একটা বড় পালতোলা নৌকার গুণ টানত সে। নদী অঞ্চলের গল্প, অনেক আগের। তো আমার লোভটা এই হয়েছিল যে পালতোলা একটা নৌকা যদি আমি স্ক্রিনে দেখাতে পারি! এখন তো সেই নৌকা পাওয়া যায় না। এবং এই প্রপস ম্যানেজ করতে বা এই লোকেশান ম্যানেজ করতে অনেক কষ্ট হয়েছে।

সাঈদ

গল্প থেকে যে আপনি চিত্রনাট্য করেছেন, কতটুকু স্বাধীনতা নিয়েছেন বা কতটুকু স্বাধীন ভাবে কাজটা করেছেন?

কাকলী

পুরোটাই। আমি কাহিনি বিন্যাস করেছি আমার নিজের মতন  করে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে দেখা গেছে ক্যারেক্টারের ডিটেইল ছিল না। সে ক্ষেত্রে ওই ক্যারেক্টারটাকে অনেক বেশি ডিটেইল করেছি।

আমার গল্পে একটা ফেরিওয়ালা আছে—সেই প্রফেশনটা কিন্তু ছিলই না। ছবিতে সেটা একজন চুলওয়ালা, যারা মহিলাদের কাছ থেকে চুল কিনে, কেনাবেচা করে। এটা কিন্তু, কুষ্টিয়া অঞ্চলে এই ট্রেন্ডটা আছে। এখন উত্তরবঙ্গেও হয়েছে। ফলস চুল এর কারণে। মহিলারা আচড়িয়ে আচড়িয়ে চুলগুলি রেখে দেয়, সেই চুল সে কিনতে আসে।

তো এই প্রফেশনটা কিন্তু আমাদের দেশের সবাই জানে না। আমার গল্পটাও যেহেতু একটু নদী অঞ্চলভিত্তিক আর এই ট্রেন্ডটা কুষ্টিয়াতে অনেক বছর আগের, তো আমি ওই ফেরিওয়ালার প্রফেশনটাই রেখেছি। ওইটা কিন্তু উপন্যাসে খুব ডিটেইল কিছু ছিল না। একটা কেলেঙ্কারি হয়, বাট নট ডিটেইল। এখন কিছু জিনিস আছে, আবার যেমন সুজন যেই ক্যারেকটারটা ছিল এটা একটা হিন্দু ক্যারেকটার ছিল—দেবাশিষ ছিল মূল গল্পে। প্রথম যে ছায়া, যে ছিল সে একটা হিন্দু ক্যারেক্টার, একটা মেয়ে ছিল। ভোরবেলায় সে আসলে পূজা দিতে গিয়ে একটা লাশের মতই পায়, যেটা লাশ না। ফলে তাকে নিয়ে সেবা শুশ্রুষা করে সুস্থ করে।

কিন্তু আমি এখানে দিয়েছি দুই ভাইবোন ছুটোছুটি  করছে। নদীর পাড়ে গিয়ে তারপর তারা দেখছে যে একটা লোক ভেসে আসছে। এই স্বাধীনতা ছিল আমার চেন্জ করার। আমাদের যে রাইটার শেখ জহুরুল হক, উনার গল্পে অদ্ভুত ধরনের টুইস্ট আছে। উনি একটা সংলাপের উপর দিয়ে অনেক বড় গল্প লিখতে পারেন। আমি উনার একটা কাজ করেছিলাম ‘রঙিন শাড়ি’ নামের, একটা সংলাপ ছিল—”বকনা গরু এর চাইতে মরে না। বাকিটুকু ঠাইসা মারতে হয়।”

এই একটা সংলাপের উপর দিয়ে টোটাল একটা গল্প। মানে—একটা অসুস্থ মহিলা তার সাথে এক গরুর রিলেশান। গরু মরে যাচ্ছে, সে গরুটা মারা যাওয়ার পরে মুচি এসেছে। মুচি দেখছে যে এই গরুটাকে বাকিটুকু ঠেসে মারলেই হবে। সেটা আবার গরুটা আবার প্রিয় একজনের, বাড়ির প্রিয়। পশু  হলেও তাকে সন্তানের মতন দেখছে। আরেক জন ভদ্রমহিলা অসুস্থ হয়ে গেছে, বিছানায় পড়ে আছে এক বছর ধরে। কিন্তু তার হাজবেন্ডের পরকীয়া হয়েছে আরেকজনের সাথে। তো এই বউ মারাও যাচ্ছে না, আবার ঠিক সুস্থও হচ্ছে না। ওই একটি সংলাপের উপর দিয়ে পুরো গল্পটা।

শেখ জহুরুল হক আমার একটু শ্বশুরতুল্য, বাগেরহাটের। প্রাণকে ছোটবেলা থেকেই চিনেন। এক সময় আমাকে নিজেই খুঁজে বের করেছেন।

প্রচুর টিভি দেখেন, ফিল্ম দেখেন, তার নাকি ডিরেক্টর পছন্দ হয় না। বাট যখন আমি গ্রামীণ পটভূমিতে কাজ করতাম আমাকে খুঁজে খুঁজে বের করেছেন। যে একটি নারী নির্মাতা, তারপরে আবার গ্রামের কাজ করছে—গরুর গাড়ি, আমার প্রথমের দিকের কাজ—এত অ্যারেন্জমেন্ট নিয়ে। তারপরে খবর নিতে নিতে শোনেন যে আমি বাগেরহাটেরই বউ, এবং প্রাণকে চিনেন।

তারপরে আমাকে ফোন করেছেন। এবং তিনি একটা একটা একটা করে গল্প আমাকে দিতে বাধ্য হন। এই যে উপন্যাসটা যখন আমার হাতে আসল লিখার পরেই বললেন যে মা, আমি একটা গল্প লিখেছি তুমি কি পড়বে? আমি বললাম যে হ্যাঁ আঙ্কেল, কেন পড়ব না!

আমি পড়েছি। আমার এই যে টুইস্টটা ভালো লেগেছে যে একজন গুন টানার একটা লোক—একটা মাঝিকে নিয়ে উনি যেই সামাজিক সমস্যাগুলি তুলে ধরেছেন, উনার উপন্যাসের মজাটাই এই জায়গাটায়।

সাঈদ

আর একটা কথা, শেখ জহুরুল হকের গল্পতেও মনে হয় হিল্লা বিয়ের ব্যাপারটা ছিল।

কাকলী

হিল্লা বিয়ে—এইটাই গল্পের মূল উপপাদ্য ছিল, নতুন করে আমি কিছু অ্যাড করি নি। মানে ক্যারেক্টারগুলি কমবেশি করেছি।

সাঈদ

এটা বাদ দেয়াতে চিত্রনাট্যে কোনো প্রভাব পড়েছে কিনা?

কাকলী

এটা বাদ দেয়াতে একটু তো প্রভাব পড়বেই। কারণ স্মুথলি আমি গল্পটাকে সাজিয়ে নিয়ে এসেছিলাম। এটা আমারো অজানা ছিল যে ‘৮২ সালে হিল্লা বিয়ে বন্ধ হয়ে গেছে। আমার পরে মনে পড়েছে আমরা খুব ছোট বেলায় বিটিভিতে দেখতাম ‘তালাক’ ‘তালাক’ বললেই তালাক হয় না।

এই গল্পে অনেক টুইস্ট আছে, অনেক মোড়। কিছু জিনিস আমাকে অমিট করতে হয়েছে। হিল্লা বিয়ের শব্দগুলো যখন আমাকে বাদ দিতে হয়েছে তাতে করে তো আমার কাছে মনে হয়েছে যে একে তো বিজ্ঞাপন বিরতির জন্য আমরা ছবি ভাল মতো দেখতে পারি না, তার উপরে আবার ইন্টেলেকচুয়াল কাটিং হয়ে গেছে এখন। এখন সেটা খুব  নরমাল পিপল হয়ত কমিউনিকেট করতে পারবে না, কিন্তু আবার পারবেও। কারণ আমাদের দেশের লোক বা গ্লোবালি আমরা এখন খুবই ট্যালেন্টেড।

সাঈদ

আপনি কি মনে করেন যে গল্পের ভেতর যদি হিল্লা বিয়ের বিষয়টা থাকত তাহলে গল্পটা স্বয়ংসম্পূর্ণ হত?

কাকলী

হ্যাঁ, ডেফিনেটলি স্বয়ংসম্পূর্ণ তো হতই। একটা জিনিস আনকাট ভাবে যদি সেন্সর পায় সেটা তো…. । গল্পটা কিন্তু আমার একদম রিয়েলিস্টিক একটা ছবি। রিয়েলিস্টিক ছবির ভেতরে তো আসলে এমন কোনো অশ্লীলতা নেই যেটার জন্যে মানুষের ই লাগবে।

সাঈদ

নদীজন তো আসলে একটা নদীর পাড়ের গল্প, তো আপনাদের নদীর পাড়ে শুটিং করতে বাড়তি কোনো আয়োজন বা কষ্ট করতে হয়েছে কি?

কাকলী

হ্যাঁ, নৌকার অ্যারেন্জমেন্টে আমার একটু কষ্ট ছিল। কারণ এই নৌকাটা আসলে আপনার অ্যাজ ইউজুয়াল কোনো নৌকা না। পালতোলা নৌকা, গল্পে যে বর্ণনা ছিল, এই নৌকা তো পাওয়াও যাচ্ছিল না। সব নৌকাতে তো পাল দেওয়া যায় না। সেই স্পট খুঁজতে খুঁজতে আমি গিয়ে পেলাম পরিশেষে আপনার কুষ্টিয়াতে। তারপর আমরা রোজই শুটিং করেছি। গড়াই নদী থেকে স্টার্ট করতাম, স্টার্ট করে আমরা পদ্মায় চলে যেতাম। এটা রবীন্দ্রনাথের কুঠিবাড়ির ওইদিকে শিলাইদহ—ওই স্পটে করেছি।

সাঈদ

আপনারা শুটিং-এর সময়টায় কোথায় থাকতেন?

কাকলী

আমরা থাকতাম শিলাইদহ কুঠিবাড়িতে—ছিলাম। তারপরে প্রপারের হোটেলে ছিলাম। মানে স্পট অনুযায়ী আমরা সিফট করতাম। যেমন স্বস্তিপুরে আমাদের প্রথম পাঁচ দিন শুটিং হল, তারপরে আরেক জায়গায়—এ রকম করে করে আমাদের সিফট করতে হত। টোটাল কুষ্টিয়াতে শুটিং হয়েছে। আমার বন্ধুর বাড়িতে ছিলাম।

সাঈদ

নদীজন যখন প্রথম দিকে শুটিং করেছিলেন এটার নাম ‘ঢেউ’ ছিল।

কাকলী

হ্যাঁ হ্যাঁ। ঢেউ না, এটা আসলে দুষ্টুমি করে ঢেউ হয়েছিল। উপন্যাসটার নাম ছিল গুণ, গুণ দিয়েই কিন্তু আমার ফার্স্ট স্ক্রিপ্ট আছে। আমার প্রপোজালে গুণই লেখা ছিল। বাট এটা কি মানুষের গুণ নাকি এটা যোগ বিয়োগ ভাগ গুণ নাকি গুণ টানার গুণ—আমি এটা বোঝাতে পারছিলাম না। এই গুণটা একটা প্রশ্নের মত করে থেকে যেত।

গুণ টানাটা ধরেই সাবজেক্ট। একটা বড় নৌকায় সাত আটজন ওয়ার্কার থাকে ফিশারম্যান যারা আর কি, তারা কিন্তু সবটাই করে। পাল তুলছে, গুণ টানছে, আবার নৌকা যখন আটকে যাচ্ছে একজন হেড মাঝি আছে সে বলছে তাড়াতাড়ি নেমে যাও, গুণ টানো, বাতাস নেই! আবার পানি সেকছে একজন।

নতুন ওয়ার্কার আস্তে আস্তে কাজ শিখে। কুকিং দিয়ে শুরু হয়। ও রান্না করে। তো ও হচ্ছে গুণটানা এক্সপার্ট ছিল।

সাঈদ

নদীজনে আপনি কি বাইরের আর্টিস্ট ব্যবহার করেছেন, নাকি আপনাদেরই শুটিং ইউনিটের লোক ছিল?

কাকলী

লোকাল আর্টিস্টদের আমি নিয়েছি। শিল্পকলার ছিল, বদন থিয়েটারের ছিল, ওখানে কিছু ছোট ছোট ক্যারেক্টার আছে সেই নৌকার ক্ষেত্রে লেগেছে সালিশ টালিসের জন্যে। সেগুলা আমি থিয়েটারের লোক ইউজ করেছি। আর একান্ত জেফত টেফত এর ক্ষেত্রে আমি গ্রামের কিছু লোকজন, নৌকার জন্যে কিছু রিয়েল মাঝি… পালটাল তোলার সময়… কারণ ওরা তো পালটাল তোলাগুলি জানে আর আমাদের আর্টিস্টরা তো জানে না। কোন দড়িটা টানতে হবে, কোনটা টানতে হবে না সব একদিনের মধ্যে দিয়ে রিয়েলিস্টিক ভাবে প্রেজেন্ট করা হয়েছে।

সাঈদ

এই ঈদুল ফিতরে [২০১৫ সালের – বি. স.] তো এই ছবিটা মুক্তি পাচ্ছে, তো কোন কোন প্রেক্ষাগৃহে এটা মুক্তি পাচ্ছে?

কাকলী

যমুনা ফিউচার পার্কে আর চ্যানেল আইতে ঈদের দিন দেখাচ্ছে ছবিটা। আমার টার্গেট আসলে ইন্টারন্যাশনাল। আমরা তো আমাদের হিল্লা বিয়ে সম্পর্কে জানি, সেখান থেকে আমরা সরে আসছি। কিন্তু ইউরোপিয়ানদের কাছে এটা একটা ঘটনা। যে একজন রাগ করে ‘তালাক’ বলল আর তালাক হয়ে গেল! আরেক জনের বউ আটকে রেখে দিল। তারপরে আরেকজন ভদ্রলোকের সাথে কথাবার্তা বলতেছে, সেখানে সন্দেহ করছে।

আমাদের দেশের সামাজিকতা যে এই ধরনের এটা কিন্তু একটা ইউরোপের মানুষ বিলিভই করতে পারবে না। আবার দেখা যায় যে অনেক ইসলামিক কান্ট্রিতে তো মহিলারা একটা পুরুষের সামনেই যায় না। তাদের কাছে আবার মনে হচ্ছে একটা লোক বাড়িতে আসছে, তাকে পানি খাওয়াচ্ছে, তার কাছে চুল বিক্রি করছে, ফেরিওয়ালারা বাড়ির ভেতরে ঢুকছে আবার স্বামী ওয়াইফকে রেখে চলে যাচ্ছে। আবার এ রকম একটা ঘটনায় হুজুর টুজুর নিয়ে সালিশ হচ্ছে, তার আবার অন্যত্র বিয়ে দিয়ে তাকে আবার রিটার্ন ব্যাক করতে হবে।

আমার ফোকাসটাই হচ্ছে, আমি এই গল্পটাকে ইস্টারন্যাশনালি দেখাব। ইন্টারন্যাশনালি নট দ্যাট যে সামাজিক। এ ধরনের গল্পে টুইস্ট আছে। আমি আমার ফেস্টিভ্যালের অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি যে একটা দেশের ল্যান্ডস্কেপ দেখতে খুব পছন্দ করে। বাংলাদেশ বলতে এখনও কিন্তু মানুষ বিশ্বাস করে নদীমাতৃক দেশ। ‘৭১ ইস্যু ধরে যদি বাংলাদেশ আসে, যে যুদ্ধ হয়েছিল, যে ভাবে জন্ম হল বাংলাদেশের… তখন কিন্তু একটা পালতোলা নৌকা, সুন্দর একটা অ্যাটমোস্ফিয়ার প্রাকৃতিক ভাবে দেখতে চায়।

সাঈদ

আপনি যেটা বললেন যে হিল্লা বিয়ের ব্যাপারটা… আপনি ইন্টারন্যাশনালি পরিচয় করিয়ে দেওয়ার কথা বললেন। কিন্তু সেন্সর বোর্ড হিল্লা বিয়ে ব্যাপারে আপত্তি করাতে তো আপনি এটা দিতে পারছেন না।

কাকলী

আমাদের এখন কিন্তু আর হিল্লা বিয়েটা আইনগতভাবে নেই, সামাজিকভাবে আছে। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে কী, এখন যদি হাজবেন্ডকে আমি ছেড়ে দেই, আমার কিন্তু রিটার্ন ব্যাকের জন্য না। ভুলবশত কিছু একটা হয়ে গেল, সেটা কিন্তু আর হয় না।

দেখা যাচ্ছে যে সামাজিক গল্পগুলি… এমন একটা জায়গা হয়ে গেছে—মিক্সড। আমরা মুসলিম, আমরা বাঙালী, আমরা পশ্চিমা সংস্কৃতি ধারণকারী। তো এই যে একটা মিক্সড কালচারের জন্যে এখন কিন্তু হিল্লা বিয়ের ব্যাপারটা নেই। এখন একজন ওয়াইফ তার রাইট সম্পর্কে বলতে পারে। সে কিন্তু জানে হাউ টু গেট লাভ, আর সেটা যদি সে না পায় একটা সময় সে ডিসাইড করে যে আমি এখানে আর থাকছি না। তখন সংসারটাকে ছেড়ে চলে যেতে চায় । আরেকজনের সাথে যদি তার সম্পর্ক তৈরি হয় তখন তারাই ডিসাইড করে যে  জীবনটা নতুন করে শুরু করবে। কেউ কিন্তু ব্যাক করে না।

শাহনেওয়াজ কাকলীর সঙ্গে কথা বলছেন সাঈদ রূপু, ২০১৫

হিল্লা বিয়ের প্রচলনটা ছিল যে, ভুলবশত একটা কিছু হয়েছে, আবার ফিল করেছে স্বামীকে, তারপরে মনের একটা সরল জায়গা থেকে ওয়াইফকে রিটার্ন চাচ্ছে বা হাসবেন্ড এর কাছে ওয়াইফ যেতে চাচ্ছে। এই যে দুই জনের যে দীর্ঘ দিনের থাকার টানের যে জায়গাটা এখন সেই জিনিসগুলি আর নাই। এখন কিন্তু সেইভাবে কেউ রিটার্ন আসেও না। ইগো এখন বিশাল বড়। মানুষ এখন অনেক কিছু জানে, জীবনের পরে জীবন আছে। মানুষ বুঝতে শিখেছে তার রাইট কী। আগে যেমন হুঁট করে মাথা গরম হিল্লা বিয়ে হয়ে যেত। মানুষ কিন্তু এই ছোট ঘটনাগুলিকে ইগনোর করতে শিখেছে, যে এটা কিছুই না, এক বেলা পরেই এটা ঠিক হয়ে যাবে।

সাঈদ

পরবতীতে কি কোনো পূর্ণদৈঘ্য ছবির ইচ্ছা আছে?

কাকলী

হ্যাঁ, ফিল্ম আমার প্যাশন। অনেকের কাছে মনে হয় যে একটা ফিল্ম বানানো শুরু করবো কবে, কিন্তু আমার কাছে ফিল্ম বানাতে দিলে ইজি মনে হয় এবং দ্রুত অ্যারেন্জ করতে পারি।

সাঈদ

আপনি কোন ধরনের ছবি বানাতে পছন্দ করেন?

কাকলী

আমি আসলে সব ধরনেরই ছবি পছন্দ করি। এটা স্টোরির  উপর ডিপেন্ড করে। অ্যাটলিস্ট স্টোরি আমাকে কীভাবে টানল। আজকে যদি আমি আশা করতাম যে কমার্শিয়াল ছবি বানাবো আমার দুই তিন কোটি টাকা বাজেট লাগবে, আমার স্বপ্নটা পূরণ নাও হতে পারত।

আমাদের দেশের প্রেক্ষাপট নিয়ে আমাদের যে গল্পগুলি হচ্ছে, ১৬ কোটি মানুষের ৩২ কোটি গল্প আছে, গল্পগুলি মানুষকে জানানো উচিত। সেখানে আমি যদি সেই স্বপ্ন নিয়ে থাকতাম তাহলে আমি ফিল্মমেকার হতে পারতাম না। ব্যক্তিগত জীবনেও আমি আরবান লাইফ পছন্দ করি। আমার প্রত্যেকটা জিনিস একটু পার্টিকুলার থাকবে, সেইটাই আমি পছন্দ করি। সে ক্ষেত্রে আমার যেমন অনেক টাইপের স্ক্রিপ্ট আছে। ‘৭১-এর উপর একটা স্ক্রিপ্ট রেখেছি, ইয়াং জেনারেশনের উপর একটা স্ক্রিপ্ট করা আছে, এখন আমার মূল টার্গেট হচ্ছে কমার্শিয়াল ছবি। অনেকের ধারণা যে আমি ফোক ছবি বানাই, মেবি আমি মনে হয় ফোক থেকে বের হতে পারব না।

পরিবাগ, ঢাকা ৫ জুলাই ২০১৫

কমেন্ট করুন

মন্তব্য

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here